হবিগঞ্জের বাহুবলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার এক পলাতক আসামিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১১-এর যৌথ দল। গ্রেপ্তার আসামি মো. মোস্তাকিম (২২) বাহুবল থানার মামলাটির এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি।
গ্রেপ্তার মোস্তাকিম হবিগঞ্জের বাহুবল থানার খুজারগাঁও এলাকার মো. আব্দুল আহাদের ছেলে। গত ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (৩৮) ও মামলার আসামিরা একই এলাকার বাসিন্দা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ৪ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে আব্দুল্লাহ তাঁর দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় খুজারগাঁও মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদের দক্ষিণ পাশের সড়কে পৌঁছান।
এ সময় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দা, রামদা, চাকু, কিরিচ, চাপাতি ও ফিকলসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে আব্দুল্লাহ ও তাঁর দুই ভাইয়ের পথরোধ করে গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে ১ নম্বর আসামি মো. হোসেন আলীর নির্দেশে অন্যরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তিন ভাইকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর অপর এক ভাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে বাহুবল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ৯ জুলাই দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
র্যাব জানায়, আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং র্যাব-১১-এর সিপিএসসির সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে মোস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, একই মামলায় গত ১৮ জুলাই ও ৪ আগস্ট আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোস্তাকিমকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।






