সিলেট, ২ আগস্ট: হবিগঞ্জের বাহুবলে গ্রাম্য রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে দুইজনকে হত্যার ঘটনায় ০১ জন আসামিকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১১-এর যৌথ আভিযানিক দল। গ্রেফতারকৃত আসামি জিয়াউল হক (৪২), পিতা মৃত নুরুল হক, সাং হিলাল পুর, থানা বাহুবল, জেলা হবিগঞ্জ।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী জেলার সদর মডেল থানাধীন পাচঁদোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাহুবল মডেল থানার মামলা নং-১৩, তারিখ ২৩/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০-এর মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ০৫নং পলাতক আসামি।
র্যাব জানায়, ভিকটিম সেলু মিয়া ও হেলাল উদ্দিন বাহুবল থানাধীন আতিদ্যপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গ্রামের চলাচলের রাস্তা নিয়ে ভিকটিম সেলু মিয়ার সঙ্গে বিবাদীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ১৫/০৬/২০২৬ খ্রি. সন্ধ্যার পর বাহুবল থানায় সালিশ বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
র্যাবের বিবরণ অনুযায়ী, একই দিন দুপুর ১২টার দিকে ডুবাঐ বাজারের পাশে সেলু মিয়াকে একা পেয়ে বিবাদীরা বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে তার পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তার চিৎকারে হেলাল উদ্দিন এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সেলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং হেলাল উদ্দিনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২২.২৬ ঘটিকার সময় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় সেলু মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে বাহুবল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে জিয়াউল হককে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গত ১৩/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ উক্ত মামলার এজাহারনামীয় ০২নং আসামিকে র্যাব-৯ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





