
সিলেট, ৬ আগস্ট: শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ড. ফজলুর রহিম কায়সার। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের (ইংরেজি ভার্সন) বার্ষিক সাংস্কৃতিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ফজলুর রহিম কায়সার বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে তাদের দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং শৃঙ্খলাবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের পরিবেশে বেড়ে ওঠা তরুণরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও অপসংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত কার্যকর। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত চেতনা, সহনশীলতা ও শৃঙ্খলার বিকাশ ঘটে। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষিকা তাজিন জাকিয়া ও ফারজানা ইয়াসমিনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গভর্নিং বডির সদস্য নিয়াজ মো. আজিজুল করিম।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফলের দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং তাদের সার্বিক মানসিক ও নৈতিক বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল এবং কলেজ ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদার। পরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
এদিকে একই দিন সকালে প্রাথমিক বাংলা ভার্সনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দি ইসলামিত সোসাইটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সোসাইটির সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক বাংলা ভার্সনের কো-অর্ডিনেটর জাহানার বেগম আক্তার।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।






