সিলেট, ২০ সেপ্টেম্বর। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স চতুর্থবারের মতো শনিবার গণনা হয়েছে। ৩৪ দিন পর দানবাক্স খুলে মিলেছে প্রায় ৮৯ লাখ টাকা। এছাড়া মিলেছে স্বর্ণ এবং ১৫টি দেশের মুদ্রা।
শনিবার সন্ধ্যায় বাক্সে পাওয়া দানের হিসেব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। শনিবার সকাল ১০টা থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে বসানো তিনটি দানবাক্স ও তিনটি ডেগ থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেগের সিলগালা খুলে সংগ্রহ করা হয় টাকা। পরে প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী মিলে দিনভর সেগুলো গণনা করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম প্রাপ্ত দানের হিসাব ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, এবার দান হিসেবে মিলেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ, ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ৯৫৪, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯.২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৫৭.২৫ দিরহাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১.৫০ রিয়াল, ৩০.১০ ইউরো, বাহরাইনের দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ টিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়াহ।
এছাড়া দান হিসেবে ৬টি গরু ও ১১০টি ছাগল পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য জবাই করা হয়েছে ৫টি গরু ও ৭০টা ছাগল। ৪০টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার স্টাফদের মজুরি এবং একটি করে গরু ও ছাগল গরীব দুই মেয়ের বিয়েতে দান করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময় পাওয়া গিয়েছিল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। শনিবার চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা। এতে নগদ প্রায় ৯০ লাখ টাকা, বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি কিছু চিঠি ও চিরকুট পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে একটি কাগজ নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ওই কাগজে একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট। ফেসবুক পোস্টটি সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমের, যা তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিয়েছিলেন। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলে সারওয়ার আলমের উদ্যোগে গত ১৮ জুন মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। দানবাক্স ও ডেগ সিলগালার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে আরেক পক্ষের অভিযোগ, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। সেই সারওয়ার আলমের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট পাওয়া গেল শনিবার মাজারের ডেগে। ২০১৯ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্রেরণার বাতিঘর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে ওই পোস্ট দেন সারোয়ার আলম। ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার আলম লিখেছিলেন, ‘আমাদের প্রেরণার বাতিঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ধন্য পিতার ধন্য কন্যা আপনি, বাঙ্গালীর হৃদয়ে বেঁচে থাকুন হাজার বছর। আপনার নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে উন্নত বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ।’





