
হবিগঞ্জ, ৫ নভেম্বর:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেটবাহী পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিশেষ কৌশলে অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে গত দুই দিনে চার হাজার ২৯২ লিটার কনডেনসেট চুরি করে। চুরি করা তেল মাটির নিচে তৈরি গোপন ট্যাংকে মজুত রাখা হতো।
বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উত্তর নোয়াপাড়া এলাকার রতনপুর ডাক্তারবাড়ি সংলগ্ন স্থানে এই চুরির ঘটনা উদ্ঘাটন করেন গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের নিরাপত্তাকর্মীরা। তাঁরা পাইপলাইনের কাছে পাঁচ-ছয়জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পান। এগিয়ে গেলে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পাইপলাইনে ছিদ্র করে হোসপাইপের মাধ্যমে কনডেনসেট বের করার বিষয়টি ধরা পড়ে। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে।
জব্দকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ছয় ইঞ্চি ব্যাসের একটি ক্ল্যাম্প, এক ইঞ্চি জিআই পাইপ, দুটি বলভাল্বসহ অন্যান্য উপকরণ। সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনের বাড়ির পুকুর ও আশপাশ থেকে তেল মজুতের কাজে ব্যবহৃত দুটি বড় পানির ট্যাংক উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়িতে মাটির নিচে তেল সংরক্ষণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি দুটি গোপন গর্ত বা ট্যাংকের সন্ধানও পাওয়া যায়।
জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীদের সুপারভাইজার দুলাল মিয়া জানান, ঘটনার সময় সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেন। জিটিসিএলের আশুগঞ্জ অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে তাদের অভিযোগ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জিটিসিএলের উপব্যবস্থাপক মো. জায়েদ হোসেন জানান, গত দুই দিনে পাইপলাইন থেকে চার হাজার ২৯২ লিটার কনডেনসেট চুরি হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ ৭৬ হাজার ৯২০ টাকা। উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম হাসান বলেন, পাইপলাইনে ছিদ্র করে বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে সুকৌশলে তেল বের করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হতো। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। জিটিসিএল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এসআই সামসু উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত জব্দ করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





