
মাধবপুর (হবিগঞ্জ), ৫ নভেম্বর: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগ তুলে চার ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিনের বেলায় উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের পিয়াইম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিয়াইম গ্রামের কৃষ্ণপদ সরকারের একটি গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য আবিদ মিয়াসহ গ্রামের গণ্যমান্য কয়েকজন অভিযুক্তদের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘরের আসবাবপত্র বাইরে এনে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
যাঁদের বাড়িতে হামলা হয়েছে, তাঁরা হলেন পিয়াইম গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৮), মৃত উসমান মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০), মৃত সক্কদর মিয়ার ছেলে সামছু মিয়া (২৬) এবং মৃত লাল মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (৩০)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই চারজন দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুধু পিয়াইম নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রামেও তাঁরা চুরি-ডাকাতি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
গ্রামবাসী আরও অভিযোগ করেন, চুরি-ডাকাতির সময় বিভিন্ন বাড়ির নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেননি বলে তাঁদের দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কারও বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা যায়নি।
পিয়াইম গ্রামের বাসিন্দা মুতি মিয়া ও জামাল মিয়া জানান, অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল ও চাপাতিসহ চুরি-ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন এবং রাতে চুরি-ডাকাতিতে জড়িত থাকেন।
এ বিষয়ে ছাতিয়াইন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস দে বলেন, সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চুরি-ডাকাতির একাধিক মামলা আছে। তবে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি জানান, কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ যা-ই হোক, কারও বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া আইনের দৃষ্টিতে আলাদা অপরাধ। চুরি-ডাকাতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং হামলার ঘটনার বিচার, দুটোই নির্ভর করছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও পুলিশের তদন্তের ওপর। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগের কথা জানা যায়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।






