হবিগঞ্জ, ১৫ আগস্ট: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রঘুনন্দন বনাঞ্চলের শাহপুর বন বিটে বন কর্মকর্তার যোগসাজশে সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন ও মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায় বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বন বিট থেকে বিভিন্ন অভিযোগে রঘুনন্দন রেঞ্জের শাহপুর বন বিটে বদলি হয়ে আসেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর রঘুনন্দন রেঞ্জের এসিএফ-এর চোখে ফাঁকি দিয়ে বনাঞ্চলের ভেতর মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ও বাঘাসুরা ইউনিয়নে কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময়ে প্রতিদিন রাতের আঁধারে বালু ও মূল্যবান গাছ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব চোরাই গাছ কেটে রাতের ভেতরেই উপজেলার নোয়াপাড়া, জগদীশপুর, ছাতিয়াইন, বাঘাসুরা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানের বৈধ ও অবৈধ করাতকলে বিক্রি করা হচ্ছে। চোরাই গাছগুলো রাত থেকে ভোর সকাল আটটার মধ্যে পিকআপ, ডাম্প ট্রাক, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক্টর, পাওয়ার ট্রলি, ব্যাটারিচালিত টমটম, ভ্যানরিকশাসহ বিভিন্ন বাহনে পাচার করে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার গাছ বিক্রি করা হচ্ছে। সিলিকা বালুও রাতের আঁধারে উত্তোলন করে উপজেলার বিভিন্ন কোম্পানি, মহাসড়ক, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে বিক্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব গাছ পাচারকারী চক্রের অনেকে বিএনপি নেতা হিসেবে নাম ব্যবহার করে চোরাইভাবে বনাঞ্চলের গাছ কাটা ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকি নেই বলেও অভিযোগ। নামেমাত্র অভিযানে ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও একই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
শাহপুরের স্থানীয় সালাউদ্দিন সূত্রে জানা যায়, রথীন্দ্র কিশোর রায় ২০২২ সালে বাহুবলের পুটিজুরী বন বিটে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় ত্রিপুরা পল্লীর শতাধিক পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জেরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ থাকলেও উপরের মহলের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর বলেও দাবি করা হয়। অবৈধভাবে বনাঞ্চল থেকে মাসিক আয়ের একটি অংশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয় বলে তিনি নিজে বলে থাকেন বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
বনাঞ্চলের গাছ কেটে নেওয়ার পর অবশিষ্ট গাছের গোড়ায় পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মনে হয় গাছগুলো অনেক আগেই কাটা হয়েছে। কোথাও কোথাও গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিকিউরিটি গার্ড বলেন, রঘুনন্দন বনাঞ্চলের গাছ চুরি ও বালু উত্তোলনের বিষয়ে সরেজমিনে নিরপেক্ষ তদন্ত করলে বন কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বেরিয়ে আসবে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর শাস্তি ও অন্যত্র বদলি করা উচিত। ব্যবস্থা না নিলে সংরক্ষিত রঘুনন্দন বনাঞ্চল আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।





