
সুনামগঞ্জ, ৫ নভেম্বর: পিরোজপুরের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আয়োজনে সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক নুরুল মোমেনের সভাপতিত্বে ও তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক বিলাল হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল মজিদ, জামালগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অ্যাড. আসাদ উল্লাহ সরকার, ছাতক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার তোতা মিয়া, দোয়ারাবাজার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সফর আলী, তাহিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হারুন অর রশিদ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আতাউর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের সভাপতি ওবায়দুর রহমান কুবাদ এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকা নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ে গিয়ে মিলিত হয়।
সমাবেশে ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পরও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামায়াত-শিবির ও রাজাকার различных এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে বারবার অপমান করছে। স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত থাকা অবস্থায় এমন অবস্থা দেখে তাঁদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পিরোজপুরের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত জামায়াত-শিবির ও সকল রাজাকারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সরকারকে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সাহস না পায়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক নুরুল মোমেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র একজন মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার সাহস পায়। এর জন্যই তাঁরা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে যাননি। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডারের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার দাবিকে আরও জোরালো করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মানের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি।





