ছাতক (সুনামগঞ্জ), ৪ নভেম্বর: সুনামগঞ্জের ছাতকে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা-পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়ন ও জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বড় সেতুর উভয় পাশে পাইগাঁও ও জালালীরচর গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে চরমহল্লা ইউনিয়নের নানকার এলাকার আহমদ কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে পাইগাঁও ও জালালীরচর গ্রামের ছেলেদের মধ্যে একটি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলার একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি, মনোমালিন্য ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে এ বিরোধ দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে ওই ঘটনার উত্তেজনা প্রশমিত না হতেই বুধবার সকালে দুই গ্রামের লোকজন পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন ইট-পাথর, বাঁশের লাঠি ও তীর-ধনুক নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা ও জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় ছাতক জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মুরছালিনের নেতৃত্বে এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন পিপিএমের তত্ত্বাবধানে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ সংঘর্ষে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মঞ্জুরুল হক ইটের আঘাতে আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিরা ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কৈতক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামান্য খেলাধুলার বিরোধ কীভাবে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিল, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন পিপিএম সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






