দেউন্দি কোম্পানির ৪ টি চা-বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি

দেউন্দি কোম্পানির ৪ টি চা-বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি - Surma Times | Sylhet News

বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, দেউন্দির বিরুদ্ধে দাবি - Surma Times | Sylhet Newsমৌলভীবাজার, ৪ নভেম্বর: চা-শিল্পের অন্যতম প্রাচীন বৃটিশ বহুজাতিক কোম্পানি দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেডের চারটি বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিকের বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানিয়েছে চা-শ্রমিক সংঘ। ৪ নভেম্বর গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি জানান সংগঠনের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৬ অক্টোবর থেকে দেউন্দি টি কোম্পানির মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা, হবিগঞ্জ জেলার মাধপুর উপজেলার নয়াপাড়া এবং চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি ও লালচান চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ও বকেয়া এরিয়ার ৪ হাজার টাকা পরিশোধ না করায় কয়েক হাজার শ্রমিক পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নেতারা জানান, বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে চা-শ্রমিকদের মজুরি সম্প্রতি ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পরও দৈনিক মাত্র ১৯৬.৮০ টাকা। এই সামান্য মজুরিও যদি শ্রমিকরা ঠিকমতো না পান, তাহলে তাঁদের পরিবারে যে দুর্ভোগ নেমে আসে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগের এই সময়ে সরকার, মালিকপক্ষ বা ইউনিয়নের কেউই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ইউনিয়নের নেতারা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর সময় না পেলেও নির্বাচনী প্রচারণায় সুদূর চট্টগ্রামসহ সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন বাগানে ঘুরে ঘুরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আর শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি ও এরিয়ার দাবি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

গত ১ নভেম্বর শ্রমিকরা মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং জেলা প্রশাসক বরাবর ৫ দফা দাবিনামা পেশ করেন। সেখানেও শ্রমিকরা আশ্বাস ছাড়া কিছু পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নেতারা জানান, ২০২২ সাল থেকে দেউন্দি কোম্পানির চা-বাগানগুলোতে সমস্যা-সংকটের কারণে প্রায়শই শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকদের ঘরবাড়ি মেরামত করা হচ্ছে না, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা ঠিকমতো করা হয় না। এমনকি গত ৪৭ মাস ধরে শ্রমিকদের পিএফ চাঁদা কর্তন করা হলেও বাগান কর্তৃপক্ষ তা প্রভিডেন্ট ফান্ড অফিসে জমা দেয়নি।

চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা অবিলম্বে দেউন্দি কোম্পানির চারটি চা-বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বকেয়া এরিয়ার ৪ হাজার টাকা প্রদানসহ শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি বাস্তবায়ন করে সব বাগান চালু করার দাবি জানান। বিবৃতিটি পাঠান সংগঠনের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুভাষ গৌড়। দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ না হলে শ্রমিকদের আন্দোলন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article