সিলেট, ৪ নভেম্বর: যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডসের (কিউএস) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭-এ স্থান পেয়েছে সিলেটের দুইটিসহ বাংলাদেশের ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ২৭টি সরকারি, ২৩টি বেসরকারি এবং দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এ র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের মোট ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩৬তম এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ১৪৯তম।
কিউএসের তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এশিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ২১৬তম। এরপর রয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, যার অবস্থান ২৭১তম। এ ছাড়া তালিকায় স্থান পেয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি।
অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি রয়েছে ৫৫৪তম অবস্থানে। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৭০০তম এবং সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি রয়েছে ৭৮১ থেকে ৭৯০তম অবস্থানের মধ্যে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক রয়েছে ৮০১ থেকে ৮৫০তম অবস্থানের মধ্যে। এ ছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন রয়েছে ৮৫১ থেকে ৯০০তম এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ১১০১ থেকে ১২০০তম অবস্থানের মধ্যে।
১২০১ থেকে ১৩০০তম অবস্থানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগং, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ। ১৩০১ থেকে ১৪০০তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)। ১৪০১ থেকে ১৫০০তম অবস্থানের মধ্যে রয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং। অন্যদিকে ১৫০১তম অবস্থানের পরের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া স্থান পাওয়া অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)। বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও তালিকায় স্থান পেয়েছে, তবে এর নির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।
এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়। কিউএসের এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে একাডেমিক সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, গবেষণার মান ও প্রভাব, পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশের ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া র্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্তি দেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ইঙ্গিত বহন করে। তবে শীর্ষ ২০০-এর মধ্যে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান থাকায় গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।






