সিলেট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ

সিলেট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ - Surma Times | Sylhet News

সিলেট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ৩১ অক্টোবর: এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে রীতিমতো বিপর্যয় নেমে এসেছে। বোর্ডের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি।

এবার সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন। ফলে ৩৫ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

এর আগে ২০০৫ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। এরপর ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পাসের হার ওঠানামা করলেও এবার তা ৫০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। গত বছর ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার আরও কমেছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বেড়ে ২০১০ সালে ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা করোনা মহামারির আগের সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাসের হার কমতে থাকে। ২০১৩ সালে ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে নেমে ২০১৯ সালে দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২০ সালে শতভাগ, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

এবার সিলেটে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ২০৪ জন। শনিবার সকালে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস বেগম।

গত বছর ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গত বছর জিপিএ-৫ পান এক হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডের তথ্যমতে, এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ১৭২ জন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছেন এবং কোন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ফলাফলের এই অবনতির কারণ চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি আরও জানান, এবার সিলেট বিভাগের ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে হবিগঞ্জের একটি এবং সুনামগঞ্জের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

শিক্ষার মান ও বোর্ডের সার্বিক ফলাফল উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হয়। সেই বছর ফলাফল প্রস্তুতিতে বিগত বছরের এসএসসির ফল বিবেচনা নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কিছু নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে পাসের হার স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article