সিলেট, ১ নভেম্বর: জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সিলেটে যুব গণজমায়েত, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সিলেট কল্যাণ সংস্থা (সিকস), সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা। আলোচনা সভায় বক্তারা যুবসমাজকে দেশের সমৃদ্ধিতে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
রবিবার “দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ৮টায় নগরীর রিকাবীবাজার পয়েন্টে যুব গণজমায়েত দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থার ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রিকাবীবাজার থেকে বর্ণাঢ্য যুব শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট ও সিটি পয়েন্ট মোড় ঘুরে সিলেট কল্যাণ সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় আলোচনা সভা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ২০১০ সালের জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক এবং সংস্থাগুলোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের। পরিচালনা করেন সিবিযুকসের সিলেট মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সিবিযুকসের বিভাগীয় কমিটির সহসভাপতি এম এ আলী জালালাবাদী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। বক্তব্য দেন সিকসের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমানসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন স্তরের নেতারা। জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত অনেকেসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কোনো থানার দেয়ালে যুবসমাজের কারও ছবি তাঁরা আর দেখতে চান না। অন্যায় পথে যুবদের চালানোর চেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে বলে তাঁরা মত দেন। সরকারি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে দালালমুক্ত করার দাবিও জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়াদের তালিকা প্রতিবছর প্রকাশ করতে হবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে কে কী করছেন, সেই বিবরণও পুস্তক আকারে প্রকাশের দাবি তোলেন তাঁরা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে সিলেট জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলেও তাঁরা জানান। তাঁদের প্রশ্ন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত পদকপ্রাপ্তদের বাদ দিয়ে সিলেটে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ কীভাবে উদযাপিত হয়, সেটি জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। যুবসমাজ যাতে অন্যায়ের সুযোগ না পায়, সরকারকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
সভায় উত্থাপিত এসব দাবি ও প্রশ্ন বক্তাদের নিজস্ব বক্তব্য। এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের স্বচ্ছতা নিয়ে সিলেটের এই আলোচনা নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবস্থান সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।






