সিলেট, ৩ নভেম্বর: উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে মাস্টাররোলে কাজ করলেও এখনো স্থায়ী নিয়োগের মুখ দেখেননি তাঁরা। এবার চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ৭ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার সিসিকের প্রশাসক বরাবর দেওয়া এক স্মারকলিপিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ দাবি জানান। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) মাধ্যমে দেওয়া ওই আবেদনে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণে দৃশ্যমান ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ৯১৪৩/২০১৫) করা হয়। ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তাঁদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তী সময়ে সিসিকের দায়ের করা লিভ টু আপিল (নং ১৩০৪/২০১৯) খারিজ করে ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি স্থায়ীকরণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক ও মানবিক সংকটে পড়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বা কার্যকর অগ্রগতি না হলে আগামী ১১ নভেম্বর থেকে সিটি করপোরেশনের সীমানার বাইরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা।
তবে আদালতের রায়ে চাকরি স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরও বাস্তবে অগ্রগতি না থাকায় তাঁদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে সিটি করপোরেশনের日常 কার্যক্রমে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।






