সিলেট, ৬ আগস্ট: সিলেট নগরের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের একাংশ আড়াল করে নির্মিত হচ্ছে ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ। আর এই একটি কাজকে ঘিরেই এখন তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সমালোচকদের অভিযোগ স্পষ্ট, নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের নামে আসলে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে সিলেটের অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনার নান্দনিকতা।
প্রায় ৯০ বছর আগে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছিল কিনব্রিজ। সিলেটের পরিচয়ের সঙ্গে যেন মিশে আছে এই সেতু। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে। ব্রিজটির উত্তর পাশের বাঁ দিকের নদীতীরে গড়ে উঠছে ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ, যার কারণে ব্রিজের একটি অংশ চলে যাচ্ছে আড়ালে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট সার্কিট হাউসের বিপরীতে সুরমা নদীর তীরে উঁচু পাকা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে আলোকসজ্জিত সাইনেজটি। নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। ‘আই লাভ সিলেট’ লেখার পাশাপাশি এতে জায়গা পেয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও গ্রামীণফোনের লোগোও।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নাট্যকর্মী ডিএক্সএন মাসুম খান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ব্রিজ ঢেকে এই বিশ্রী জিনিস স্থাপনের আগে একবারও কি কারও মতামত নেওয়া দরকার ছিল না?’ প্রশ্নটা শুধু তার একার নয়, ঘুরে ফিরে আসছে আরও অনেকের কথাতেই।
লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জালাল জয়ের মন্তব্যও কম তীক্ষ্ণ নয়। তিনি লিখেছেন, কিনব্রিজ সিলেটের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক, অথচ নতুন সাইনেজ বসানোর ক্ষেত্রে পরিকল্পনার সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। তার মতে, সাইনেজটি এমন জায়গায় বসানো উচিত ছিল, যেখান থেকে ছবি তুললে কিনব্রিজ ও সাইনেজ, দুটিই স্পষ্ট দেখা যায়। তাহলে ঐতিহ্যও অক্ষুণ্ন থাকত, আবার পর্যটনবান্ধব উদ্যোগের লক্ষ্যও পূরণ হতো।
এই সমালোচনার জবাবে মুখ খুলেছে সিটি করপোরেশনও। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নগরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য আকর্ষণীয় একটি স্থান তৈরি করতেই এই সাইনেজ নির্মাণ। সিটি করপোরেশন শুধু জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। নির্মাণ ব্যয় বহন এবং তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এই প্রকল্প থেকে কোনো অর্থ নেয়নি সিটি করপোরেশন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নগরের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও নান্দনিকতা অক্ষুণ্ন রেখে উন্নয়নকাজ পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। নগরবাসীর মতামত ও প্রত্যাশাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিনব্রিজের সৌন্দর্য যাতে কোনোভাবেই আড়াল না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে সাইনেজের অবস্থানও পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানান প্রশাসক।
নগর উন্নয়নের নামে ঐতিহ্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার এই বিতর্ক নতুন নয়, তবে কিনব্রিজের মতো প্রতীকী স্থাপনার ক্ষেত্রে তা যেন বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে সিলেটবাসীর কাছে। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত সাইনেজের অবস্থান বদলায় কি না, নাকি বর্তমান জায়গাতেই থেকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।






