
সিলেট, ৫ আগস্ট: স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে কলেজে চিত্রাঙ্কন, রচনা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে দিবসটির মূল কর্মসূচির সূচনা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মাওলানা ওসমান গনি এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন প্রভাষক জুঁই রানী তালুকদার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজ শাখার একাডেমিক ইনচার্জ সিনিয়র প্রভাষক কাজী সাখাওয়াত হোসেন। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন আইসিটি বিভাগের প্রভাষক খায়রুল আলম উত্তম। প্রভাষক মাহবুবর রহমান ও প্রভাষক পিয়াব্রত কৈরীর সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেয়। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, বরং দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে এবং একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার পাশাপাশি সততা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের চর্চা জরুরি। একই সঙ্গে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতন ও মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা পর্বে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেঁজুতি দে সৃষ্টি এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া বাহার ইমু। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রাথমিক শাখার সিনিয়র শিক্ষিকা তমালিকা তালুকদার তমা, বাংলা বিভাগের প্রভাষক পারমিতা রায়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রভাষক হাসান শাহরিয়ার মজুমদার এবং বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক শাখার উপাধ্যক্ষ নাহিদা খান।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক।
রচনা প্রতিযোগিতার সিনিয়র গ্রুপে একাদশ শ্রেণির রাফিন আহমেদ চৌধুরী, ইন্টারমিডিয়েট গ্রুপে নবম শ্রেণির ফিজা সিদ্দিকী এবং জুনিয়র গ্রুপে সাজেরাতুল মুনতাহা আলম চৌধুরী প্রথম স্থান অর্জন করেন।
কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার বিভিন্ন গ্রুপে বিজয়ী হন নুসরাত জাহান চৌধুরী মিম, সুরাত আনাম চৌধুরী, ফিজা সিদ্দিকী, মো. রাফিন আহমেদ চৌধুরী ও নাফিসা নুজহাত চৌধুরী। এছাড়া প্রাথমিক শাখার চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক ফয়সাল আহমেদ।
দিবসব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ন্যায়, মানবিকতা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।






