নরসিংদী, ৩ আগস্ট ২০২৬: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানাধীন কুট্টাপাড়া এলাকায় জিহাদ ইসলাম জয় (১৬) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর লাশ গুম করার ঘটনায় অভিযুক্ত সাইমন মিয়া (২০) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১১ এর যৌথ দল। সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে নরসিংদী জেলার শিবপুর মডেল থানাধীন সৃষ্টিগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, ভিকটিম জিহাদ ইসলাম জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানাধীন কুট্টাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার দিন গত ১০ জুলাই ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি তার পিতার সঙ্গে কুট্টাপাড়া এলাকায় নাইল্লা ভাঙ্গার মোড়ে মাছ ধরতে যান। পরে ভিকটিমের পিতা তাকে কিছু মাছ তার মায়ের কাছে দিয়ে পুনরায় নাইল্লা ভাঙ্গার মোড়ে আসতে বলে বাড়িতে পাঠান। ভিকটিম বাড়িতে গিয়ে মাকে মাছ দিয়ে আবারও মোড়ে ফিরে না আসায় তার পিতা বাড়িতে এসে ভিকটিমের মাকে না যাওয়ার কারণ জানতে চান। তখন ভিকটিমের মা জানান, মাছ দিয়ে মাগরিবের নামাজের পর নাইল্লা ভাঙ্গার মোড় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিকটিম বাড়ি থেকে বের হন।
পরে রাত ৯টা পর্যন্ত ভিকটিম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানাধীন ঢাকা টু সিলেট হাইওয়ে রোডস্থ কুট্টাপাড়া মোড় এলাকার রাস্তার দক্ষিণ পাশে ঝোপের ভেতর তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমপ্রাপ্ত রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তারা। পরে লাশ শনাক্ত করা হয়। ভিকটিমের পিতার ধারণা, অজ্ঞাতনামা বিবাদী বা বিবাদীরা তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় তিনি সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং র্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদীর যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত সাইমন মিয়া সৃষ্টিগড় এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে। তিনি নরসিংদী জেলার শিবপুর মডেল থানাধীন সৃষ্টিগড় এলাকার বাসিন্দা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল থানার মামলা নং-২০, তারিখ-১৩/০৭/২০২৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০-এর ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আরও ২ জনকে র্যাব-৯ গ্রেফতার করেছিল।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





