সিলেট, ২ আগস্ট: সিলেটের খাদিমপাড়া এলাকায় ‘এক্সেলসিয়র সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ (সাবেক জাকারিয়া সিটি)-এর মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব ফের প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ দ্বন্দ্বের জেরে রিসোর্টটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার রিসোর্টটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে দুই পক্ষই নিজেদের রিসোর্টের মালিকপক্ষের লোক দাবি করে একে অপরের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। পুলিশও বলছে, মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণেই সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।
জানা যায়, সিলেটের খ্যাতিমান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রয়াত জাকরারিয়া আহমদ নির্মিত এই রিসোর্টটি পরে প্রবাসী একদল উদ্যোক্তা কিনে নেন। প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা কেনার পর ‘জাকারিয়া সিটি’ নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেওয়া হয় ‘এক্সেলসিয়র সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’।
তবে নতুন উদ্যোক্তাদের হাতে যাওয়ার পর থেকেই রিসোর্টটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিকবার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বর্তমানে রিসোর্টটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্না। তাঁর দাবি, তিনি প্রবাসী মালিকদের কাছ থেকে রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছেন।
রাহাত চৌধুরী পক্ষের অভিযোগ, রিসোর্টের পূর্বের কর্মী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গত শুক্রবার হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। রিসোর্টের একাউন্টস ম্যানেজার জাহেদ আহমদ বলেন, শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক লোক হামলা চালায়। তারা তাঁকে ও রিসোর্টের কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
জাহেদ আহমদ আরও বলেন, “এই রিসোর্টের মালিকরা প্রবাসে থাকেন। আমরা তাদের কাছ থেকে ভাড়া এনে এটি পরিচালনা করছি। রিসোর্টটি দখলের উদ্দেশে শহিদুল ইসলাম সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালায়।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, রিসোর্টের মালিকরা প্রবাসে থাকেন, আর এই সুযোগে গত জানুয়ারিতে কিছু লোক রিসোর্টটি দখল করে নেয়। তাঁর দাবি, মালিকদের অনুরোধে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি রিসোর্টটি পুনরুদ্ধারে গিয়েছিলেন।
হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি কেন হামলা ও ভাঙচুর করবো? নিজেদের জিনিস কী কেউ ভাঙচুর করে।” তাঁর অভিযোগ, রিসোর্টের বর্তমান ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরতরাই হামলা ও ভাঙচুর করে তাঁর ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ভাড়া নেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা এমন দাবি করলেও কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।
শহিদুলের রিসোর্টে যাওয়ার দাবি প্রসঙ্গে জাহেদ আহমদ পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, মালিকপক্ষের লোক হলে ভাঙচুর ও লুট করবে কেন। তাঁর ভাষ্য, শহিদুল এখানকার সিকিউরিটি শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং এর আগেও একাধিকবার তিনি রিসোর্টে হামলা চালিয়েছেন।
এদিকে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগে শাহপরাণ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগটি এখনও মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলার খবর পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হামলাকারীদের দমানো বা আটকের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার রিসোর্টের প্রবাসী মালিকরা ভার্চ্যুয়ালি সভা করে সিদ্ধান্ত দেবেন কে বা কারা প্রতিষ্ঠানটি চালাবেন। সেই অপেক্ষায় থাকায় মামলার বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি।






