কুমিল্লা, ২৬ জুলাই: কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এনামুল হক (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নেত্রকোনা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১৪ এর যৌথ আভিযানিক দল। শনিবার ২৬ জুলাই ভোরে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানাধীন দলপা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিকটিম এনামুল হক কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানাধীন উত্তর মাঝিগাছা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বিবাদীদের সঙ্গে যৌথভাবে গরুর ব্যবসা করতেন। ওই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিবাদীদের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তারা প্রায়ই তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দিত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘটনার দিন ১৩ মে সকাল ১০টার দিকে বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজসে এনামুল হককে বুড়িচং থানাধীন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি টিনসেড ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে রশি দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তার পুরো শরীর পুড়ে গুরুতর জখম হয়।
ভিকটিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট, ঢাকায় রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মে ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তে প্রাপ্ত দুইজনকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯, সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এবং র্যাব-১৪, সদর কোম্পানি, ময়মনসিংহের একটি যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালায়। অভিযানে কনক মিয়া, পিতা মৃত কমর উদ্দিন, এবং সাগরিকা হিজরা, স্বামী কনক মিয়া, সর্ব সাং বেখৈরহাটী, থানা কেন্দুয়া, জেলা নেত্রকোনাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুলাইও একই মামলার এজাহারনামীয় একজন আসামিকে র্যাব-৯ গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত দুইজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।





