ঢাকা, ২৩ জুলাই: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে। একাধিক সূত্র বলছে, আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন, যদিও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির গোপন ফোনালাপের বিষয়টি সামনে আসার পর তার পদত্যাগের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। সূত্রগুলোর দাবি, চলতি বছরের ৯ থেকে ১৮ মে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি টেলিফোনে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সূত্র অনুযায়ী, পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়টি জানতে পারে এবং এরপরই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। জুলাই মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সরকারি ইচ্ছার কথাও তাকে জানানো হয় বলে সূত্রটি জানিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন এবং সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত বা পারিবারিক কারণ দেখাতে পারেন।
উচ্চপর্যায়ের একটি সরকারি সূত্র এ প্রক্রিয়াকে ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছে। সূত্রটির ভাষ্য, “তিনি আজ বা কাল থাকবেন না, এটাই স্বাভাবিক।” সূত্রটি আরও দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতি আগের রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন এমন তথ্য সরকারকে অসন্তুষ্ট করেছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ের কোনো ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে রাখা আর সমীচীন মনে করছে না সরকার।
রাষ্ট্রপতির নিজের বক্তব্য ও অস্বীকৃতি
তবে পদত্যাগ প্রসঙ্গে একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “দেখতে পাবেন… প্রশ্নটা বিব্রতকর।” একই সঙ্গে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের গুঞ্জনও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কারও যদি মাথা খারাপ হয়, সে এ ধরনের কথা বলতে পারে। আমি তখন মৃতপ্রায়, চিকিৎসাধীন ছিলাম। এটা একেবারে ভিত্তিহীন ও বানানো কথা।”
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারকে উন্নয়ন ও পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিকেলে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ ফের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলমের সঙ্গে বারবার ফোনে যোগাযোগ ও বার্তা পাঠানো হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তিনি সংবাদমাধ্যম মানবজমিনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে এবং এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
রাজনৈতিক জটিলতার প্রেক্ষাপট
বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ফোনালাপই কারণ নয়, বিষয়টি ‘আরও জটিল’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। গত ১০ জুলাই রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর দল পুনর্গঠনের উদ্যোগও কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে।
ওই নেতার মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে, যার মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চাইবে যে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১৭ জুলাই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কেউ কেউ মনে করছেন, অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির যোগাযোগ সরাসরি শপথ ভঙ্গের মধ্যে পড়ে এবং এটি প্রমাণ করে তিনি এখনো আগের সরকারের পক্ষে সক্রিয়, যে কারণে তাকে এই পদে রাখার আর সুযোগ নেই বলে তাদের অভিমত।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও পটভূমি
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের কোনো শীর্ষ সাংবিধানিক পদে এখনও বহাল আছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তাকে অপসারণের জোর দাবি ওঠে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শে অন্তর্বর্তী সরকার তখন প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি, যদিও রাষ্ট্রপতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। তখন তিনি আরও বলেছিলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন। এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের আলোচনা ফের শুরু হলেও বিএনপির নেতৃত্ব তখন পরিস্থিতি বুঝে এগোনোর পথ বেছে নেয়। দেড় বছরের মেয়াদ থাকায় এতদিন এই পদে পরিবর্তনে তাড়াহুড়ো ছিল না।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করতে পারেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, “এক-দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে শুনছি।” তবে একই সূত্র জানায়, আগামী ২৯ জুলাই চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার দেশে ফিরছেন, যদিও সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। দেশে ফেরার পর আজ বা আগামীকালের মধ্যে রাষ্ট্রপতি তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে বঙ্গভবন সূত্রের ধারণা। সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলেও পদটি শূন্য থাকবে না; নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের একজন সিনিয়র নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত রয়েছে এবং সে হিসেবে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম তালিকায় রয়েছে। দলের বাইরের কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হচ্ছে এমন আলোচনা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ালেও সূত্রটি তা নাকচ করে জানিয়েছে, একজন রাজনীতিবিদই হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। দলের এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, দলের সিনিয়র কাউকেই এই পদে বসানো নিয়ে আলোচনা চলছে।
উত্তরসূরি প্রসঙ্গে প্রথম আলোচনায় আসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নাম, যা মূলত ছড়িয়ে পড়ে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে। সায়ের তার পোস্টে লেখেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি এবং এর চেয়েও বিস্ময়কর বিষয় হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি পছন্দের তালিকায় রয়েছেন।
নাসিমুল গনি বিএনপি আমলের প্রভাবশালী আমলা এবং জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনে। প্রথমে তাকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে বিধি অনুযায়ী নাসিমুল গনির নিয়োগ সম্ভব নয়, কারণ মন্ত্রিপরিষদ সচিব চাকরিরত অবস্থায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন, অথচ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে হলে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনের যোগ্যতা থাকা আবশ্যক।
এ ছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়া অরাজনৈতিক কাউকে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো অতীতে দলের জন্য সুফল বয়ে আনেনি, এবং এ প্রসঙ্গে অনেকে প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উদাহরণ তুলে ধরছেন।
মানবজমিন পত্রিকা বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের প্রায় সবাই জানিয়েছেন, দলের কোনো সিনিয়র নেতাই বঙ্গভবনে যাচ্ছেন এবং কোনো আমলার এই পদে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। দলের ভেতরে এই পদের জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নাম নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, এই তিনজনের মধ্য থেকেই একজনকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে। কেউ কেউ আরেক সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামও উল্লেখ করছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু অবগত নই।” বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন মানবজমিনকে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
তবে রাষ্ট্রপতি ঠিক কবে পদত্যাগ করবেন বা তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
গুরুত্ব ও তাৎপর্য
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ক্ষমতার রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই ছিলেন একমাত্র শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারী যিনি পূর্ববর্তী শাসনামলের ধারাবাহিকতা বহন করছিলেন। তার সম্ভাব্য পদত্যাগ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক লেনদেনের একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিতও বহন করে, বিশেষত যখন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা কেবল বঙ্গভবনের ভবিষ্যৎ বাসিন্দা নির্ধারণ করবে না, বরং আগামী দিনগুলোতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও বহন করবে।







