সিলেট, মঙ্গলবার: সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।
মৃতদের মধ্যে সাত মাস বয়সী নুসিবা হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার হুসেন মিয়ার মেয়ে। সে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অপরদিকে, দুই বছর দুই মাস বয়সী রাফসা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা উযাছের আহমদের মেয়ে, যার মৃত্যু হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের সন্দেহভাজন আরও ৫১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের ৫৪৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে মোট ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চারজন। সব মিলিয়ে বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ জনে।
এদিকে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮ শিশু।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৮৭৮ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭০২ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৯৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ৭০৮ জন। মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ২ হাজার ২৪৪ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৮ হাজার ৪১১ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ শিশুদের জন্য বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।






