সুনামগঞ্জ, ১৭ জুলাই: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বন ধ্বংসের অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ছাতক রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা কে. বি. এম. ফেরদৌস বাদী হয়ে দায়ের করা এ মামলাটি (নং-২২) বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং বন আইন, ১৯২৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই গভীর রাতে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হাতিরলিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন নাছিমপুর মৌজার সংরক্ষিত বন এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ট্র্যাক্টর নিয়ে প্রবেশ করে। পরে তারা বনভূমি থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে এবং পরিবহনের জন্য বনাঞ্চলের ভেতরে রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে হাজার গাছের চারা কেটে ও উপড়ে ফেলে।
মামলায় আমির হোসেন, আরকান মিয়া, বদরুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান, দুদু মিয়া, আফছার, হেলাল, কাওসার, সোহেল, আয়না, জয়নাল, জাহাঙ্গীর, জয়নুল ও ইমরানসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন এলাকায় রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০টি চারা ধ্বংস করা হয়েছে। এতে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করেছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া গাছপালা ধ্বংসের কারণে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বালু উত্তোলন, পরিবহন ও সামাজিক বনায়নের ক্ষয়সহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।






