জৈন্তাপুর (সিলেট), ১৪ জুলাই: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় এবার মোট ৪৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখান থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জৈন্তাপুরে সরকারি ৭২টি ও বেসরকারি ১২টিসহ মোট ৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। নিবন্ধিত ছিল ৬৩১ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩৬৭ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ২৬৪ জন।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সরকারি বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এছাড়া সরকারি বিদ্যালয় থেকে সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেছে ৬ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ জন শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে।
ফলাফল অনুযায়ী, চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৯ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ জনসহ মোট ১০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে, যা উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।
এছাড়া লামনীগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৬ জন ও সাধারণে ১ জন, হেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৩ জন, চাক্তা ও মানিকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ২ জন করে এবং অন্যান্য কয়েকটি বিদ্যালয় থেকেও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি অর্জন করেছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মর্নিং বার্ডস কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকে ট্যালেন্টপুলে ৪ জন ও সাধারণে ১ জন, ফ্রেন্ডশীপ পাবলিক স্কুল থেকে সাধারণে ৩ জন এবং বিয়াম ডা. কুদরত উল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাধারণে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মঞ্জুর আহমেদ টানা তিনবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি চারবার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, “এই সাফল্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও আমরা আরও ভালো ফলাফল অর্জনে কাজ করে যাব।”
জৈন্তাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুলহাস বলেন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। আগামীতে মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।
উল্লেখ্য, এ বছর সারাদেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৪৬ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ফলাফল গত রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়।






