সিলেট: বাংলা মাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে ব্রিটিশ কারিকুলামে পা রাখা। এরপর একের পর এক মেধাবৃত্তি অর্জন করে যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেওয়া। সিলেটের তরুণ শিক্ষার্থী মো. তাজরিয়ান রশিদের এই সাফল্যযাত্রায় যুক্ত হলো আরও একটি বড় অর্জন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লেস্টার থেকে তিনি পেয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা মূল্যের পূর্ণ টিউশন ফি স্কলারশিপ।
২০২৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারে তিন বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব ইঞ্জিনিয়ারিং (বিইং) ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তির জন্য এই মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ পেয়েছেন তাজরিয়ান। এর ফলে তাঁর তিন বছরের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ হবে। পাউন্ডের হিসাবে স্কলারশিপটির মূল্য ৭৫ হাজার ৩০০, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় আনুমানিক ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বিশ্বজুড়ে নির্বাচিত মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জায়গা করে নিয়ে তিনি এই সম্মানজনক বৃত্তি অর্জন করেছেন।
এটিই অবশ্য তাজরিয়ানের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। এর আগে ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব প্লাইমাউথে বিইং ইন রোবোটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য তিনি পেয়েছিলেন ৫০ শতাংশ মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ, যার তিন বছরের মূল্য ছিল ২৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড। অর্থাৎ পরপর দুই বছরে দুটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উল্লেখযোগ্য বৃত্তি অর্জনের রেকর্ড গড়েছেন এই তরুণ শিক্ষার্থী।
তাজরিয়ানের একাডেমিক জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায় ধারাবাহিক সাফল্যের ছাপ। ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৪ দশমিক ৬১ অর্জন করেন। এরপরই আসে বড় পরিবর্তন, বাংলা মাধ্যম থেকে ব্রিটিশ কারিকুলামে রূপান্তরিত হয়ে তিনি ভর্তি হন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে, যেখানে শুরু হয় তাঁর আইএএল পড়াশোনা। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও ফারদার ম্যাথমেটিকসে তিনি অর্জন করেন যথাক্রমে এ স্টার, এ এবং এ স্টার গ্রেড। এই অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পান পিয়ারসন এডেক্সেল হাই অ্যাচিভার অ্যাওয়ার্ড।
পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যদের শেখানো ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজেও যুক্ত রয়েছেন তাজরিয়ান। শিক্ষার্থীদের পড়ানো ও মেন্টরিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি গড়ে তোলেন ‘এ-লেভেল ক্র্যাশ কোর্সেস’ (এএলসিসি) নামের একটি অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের আইজিসিএসই ও এ-লেভেলের শিক্ষার্থীদের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও ফারদার ম্যাথমেটিকস বিষয়ে শিক্ষা ও একাডেমিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তাজরিয়ানের বাবা ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসানুর রশীদ, মা রওশন রশীদ। পরিবারের তৃতীয় সন্তান তিনি। ছেলের এই অর্জনে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি তাঁর শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও এই সাফল্যে গর্বিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাংলা মাধ্যম থেকে ব্রিটিশ কারিকুলামে সাফল্যের সঙ্গে রূপান্তর, তারপর ধারাবাহিক একাডেমিক অর্জন, আর সবশেষে যুক্তরাজ্যের দুটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি লাভ, এই পুরো যাত্রা মিলিয়ে তাজরিয়ান রশিদের গল্পটি এখন সিলেটের অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম। নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে যেভাবে তিনি একের পর এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন, তা প্রমাণ করে সঠিক পরিশ্রম আর লক্ষ্যে অবিচল থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারেন।





