সুনামগঞ্জ, ১৩ জুলাই: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সকালেও যে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছিল, বিকেলের আগেই তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানির স্রোত এতটাই তীব্র যে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাওরপাড়ের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
সোমবার সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। লাউড়েরগড় পয়েন্টে যাদুকাটা নদীর পানি ৬৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৌলাইসহ ছোট-বড় প্রায় সব নদ-নদীর পানি ওঠানামা করছে।
একই সময়ে লাউড়েরগড়ে সর্বোচ্চ ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ছাতকে ১২৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামসহ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামারকান্দি এবং সদর উপজেলার ইসলামপুরের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় নৌকাই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। পানি বৃদ্ধির কারণে হাটবাজার ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামারকান্দি গ্রামের মহিউদ্দিন বলেন, “নদীর পানি তো আছেই, হাওরের পানিও ফুলে উঠছে। আমাদের গ্রামের সড়কে পানি উঠে গেছে। পানি এবার আমাদের ছেড়ে যাবে না। প্রথম পানিতে ধান গেলো, এখন পানিতে মাছ যাবে।” একই গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, “পানি দেখে ভয় কাজ করছে। আরো পানি বাড়লে তা বাড়িতে উঠে যাবে। কয়দিন থেকে দিন ধরার কোনো নাম নেই।”
রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন, “সকালে আমাদের সড়কে পানি ছিল না, হঠাৎ পানি বেড়ে গেছে। বাড়ি থেকে বের হয়ে এখন ফেরার পথে পানি দেখে অবাক হয়েছি। একটু পর পর বৃষ্টি হচ্ছে, পরিস্থিতি ভালো না। আরো পানি বাড়লে পরিবার নিয়ে বাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, রবিবারের তুলনায় সোমবার অনেক নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অতিভারি বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢল নেমেছে এবং জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।”
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্পিডবোট, নৌকা ও মাঝিদের তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।






