সুনামগঞ্জ, ১০ জুলাই: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় যৌতুকের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা না পেয়ে লুবনা বেগম (৩১) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলায় তার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গত ২৯ জুন দুপুরে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোড়াপানি গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত লুবনা বেগমকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই আজাদ মিয়া গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি জানান, প্রায় ১০ বছর আগে লুবনার সঙ্গে ছাতক উপজেলার জোড়াপানি গ্রামের মো. সুমনের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুর-শাশুড়ির প্ররোচনায় স্বামী সুমন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
পরিবারের অভিযোগ, পরে স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে লুবনা সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার উদ্যোগে তাকে আবার স্বামীর সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বরং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কেনার জন্য বাবার বাড়ি থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ২৯ জুন দুপুরে স্বামী সুমন, শ্বশুর সুন্দর আলী ও শাশুড়ি আনেছা বেগম লুবনার কক্ষে গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন। লুবনা পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে স্বামীর হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হলে তার দুই হাত, পা, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। হামলায় ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা লুবনার চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার অবস্থা গুরুতর দেখে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবারের দাবি, তিনি এখনো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মধ্যে আছেন এবং চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
লুবনার ভাই আজাদ মিয়া বলেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে চিকিৎসার কাগজপত্র ও জখমের আলোকচিত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলও এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।






