ঢাকা, ১ জুলাই: গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জোটে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের মধ্যে সাবেক সমন্বয়ক কমরেড ডা. সামছুল আলমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তাঁর কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসডিপি)। একই সঙ্গে দলটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদকে জোটের নতুন সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীতে এসডিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জোটের গঠন, কার্যক্রম এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
সভায় জানানো হয়, ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জোট গঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে চারটি রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসডিপি) এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)—সম্মিলিতভাবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শপথ গ্রহণ করে। সে সময় উপস্থিত ছিলেন কমরেড হারুন চৌধুরী, কমরেড ডা. সামছুল আলম, আবুল কালাম আজাদ এবং হারুন আল রশিদ খান।
বক্তারা বলেন, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও অন্যান্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দমন-পীড়নের মুখেও জোটের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৩ সালের ৩ মার্চ বিএনপির সঙ্গে যৌথ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক হারুন আল রশিদ খান গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনার পতন ঘটে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভায় আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন নিয়ে বিলম্ব করলে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য রাজপথে আন্দোলন জোরদার করে এবং নির্বাচন তফসিল ঘোষণায় ভূমিকা রাখে। নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে চারটি আসনের দাবি জানানো হয়। ঢাকা-১০ আসনে আবুল কালাম আজাদ প্রচার চালালেও ২১ জানুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।
তবে নির্বাচনের পর ১ মার্চ ২০২৬ কমরেড ডা. সামছুল আলম সমন্বয়কের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জোটের কার্যক্রমে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। সভায় অভিযোগ করা হয়, জোটের বৈঠক ছাড়াই তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল—পিডিপির মহাসচিব হারুন আল রশিদ খানকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করেন, যা তাঁর এখতিয়ার বহির্ভূত।
এছাড়া ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করে আবুল কালাম আজাদকে জোট থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং কমরেড হারুন চৌধুরীকে সমন্বয়ক ঘোষণা করার ঘটনাকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দায় ডা. সামছুল আলমকেই বহন করতে হবে।
এসডিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জোটের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চার মাস অন্তর সমন্বয়ক পরিবর্তনের নিয়ম রয়েছে এবং সে অনুযায়ী ৩০ জুন ডা. সামছুল আলমের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আবুল কালাম আজাদ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এসডিপি জোটের অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে এবং নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যকে পুনরায় সক্রিয় করে জনস্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জোট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমাপ্তিতে বলা হয়, জোটের অভ্যন্তরীণ এই বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয় ও আন্দোলনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।






