আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন গ্রেপ্তারের গুঞ্জন, পুলিশ বলছে তথ্য নেই

আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন গ্রেপ্তারের গুঞ্জন, পুলিশ বলছে তথ্য নেই - Surma Times | Sylhet News

আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন গ্রেপ্তারের গুঞ্জন, পুলিশ বলছে তথ্য নেই - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ৩০ আগস্ট: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারের একটি খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, শনিবার রাত ১১টার দিকে কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই একই রাতে রাজধানী থেকে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লবের প্রকৃত গ্রেপ্তারের পরপরই জাকির হোসেনের গ্রেপ্তারের এই খবরও ছড়িয়ে পড়ে।

তবে রোববার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। বরং তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে জাকির হোসেন দেশেই অবস্থান করছেন। এদিকে রোববার সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে রোববার বিকেলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তবে এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। রোববার বিকেল ৬টা পর্যন্তও একই তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গুঞ্জন ছড়ানোর পেছনে দেখা গেছে একাধিক পোস্ট। সুহেল আহমদ নামের এক ব্যক্তির পোস্টে দাবি করা হয়, কানাডা যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির। একই দাবি করে আব্দুস সামাদ আজাদ নামের আরেকজনও পোস্ট দেন, যেখানে রাজনৈতিক কটাক্ষের সুরে লেখা হয়, নেতারা একে একে দেশ থেকে পালানোর পথ খুঁজলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়তে হচ্ছে তাদের। সিলেট পোস্ট নামের একটি আইডি থেকেও প্রকাশ করা হয় বিস্তারিত খবর, যেখানে দাবি করা হয় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২৯ আগস্ট রাতে ঢাকায় ধরা পড়েছেন জাকির হোসেন এবং তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একাধিক মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ আত্মগোপনে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনেকের সক্রিয়তা থাকলেও সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিতি কমে আসে। প্রথম দিকে অনেকে ভারতে অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে দেশে ফিরে বিভিন্ন কার্যক্রমে নিজেদের সক্রিয় করছেন বলেও লোকমুখে আলোচনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরকার পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে আছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায় অধ্যাপক জাকির হোসেন সম্পর্কে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে শনিবার রাজধানীর বাড্ডা থানা পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে প্রকৃতপক্ষেই গ্রেপ্তার করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লবকে। একাধিক মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতেও একই ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে আটকের খবর প্রচারিত হয়েছিল তখন। তবে পরে প্রশাসনিক মহলে খোঁজ নিয়েও তার আটকের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কারও কারও দাবি, সোমবার ভোরে দালালের সহায়তায় ওই সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটির আত্মগোপনে থাকা নেতাদের নিয়ে এমন গ্রেপ্তার বা আটকের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিবারই সরকারি সূত্রের নিশ্চিতকরণের অভাবে এসব খবরের সত্যতা যাচাই কঠিন হয়ে পড়ছে, যা গুজব ও প্রকৃত তথ্যের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article