সিলেট, ১ সেপ্টেম্বর: মঙ্গলবার উদ্বোধন হলো সিলেট মহানগর বিএনপির নিজস্ব কার্যালয়। নগরের কাজির বাজার এলাকায় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাসভবনে যাত্রা শুরু হয় এই কার্যালয়ের। দুপুরে নগরের তোপখানা এলাকায় বাণিজ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে কার্যালয়টি উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে অসন্তোষ, বিশেষ করে তিনজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী দাওয়াত না পাওয়ায় নানা আলোচনা চলছে দলীয় মহলে।
বিএনপির মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যে মাঠে আছেন। তাদের বাইরেও যারা মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, তাদের কেউই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দাওয়াত পাননি বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দাওয়াত পাননি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী। এই তিনজনই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলীয় মহলে আলোচিত নাম।
যোগাযোগ করা হলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী দাওয়াত না পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। অন্যদিকে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী কিছুটা ক্ষোভের সুরে বলেন, মহানগরের কার্যালয়ের উদ্বোধনী পর্বে তাকে দাওয়াতটুকু দেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেননি বর্তমান দায়িত্বশীলরা। তবে এতে সমস্যা নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, দুঃসময়ে দলের সাথেই ছিলেন, বর্তমানেও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিলেট বিএনপিতে প্রকাশ্যে বিভেদ না থাকলেও আড়ালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর দুটি পৃথক বলয় সক্রিয় রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই দুই বলয়ের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বেড়েছে বলে জানা গেছে, চলছে একধরনের ঠান্ডা লড়াইও। এই দুই মূল বলয়ের অধীনে আবার রয়েছে একাধিক উপবলয়, যেখানকার প্রভাবশালী নেতারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী। মূলত এই প্রার্থিতার প্রতিযোগিতা থেকেই উপবলয়ের নেতারা প্রায়ই একে অপরকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে, যা নানা সময়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির এক নেতা জানান, এতদিন সিলেটে জেলা ও মহানগর বিএনপি একত্রেই বেশিরভাগ কর্মসূচি পালন করত। কোনো কর্মসূচি পৃথকভাবে হলেও একে অপরকে দাওয়াত দেওয়ার একটি রেওয়াজ ছিল। তবে এবার মহানগর কার্যালয়ের উদ্বোধনী পর্বে সেই রেওয়াজের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন বলেন, যেহেতু মহানগরের কার্যালয় উদ্বোধন হয়েছে, তাই মহানগর ও ওয়ার্ড কমিটির সবাইকে দাওয়াত করা হয়েছে, এর বাইরে অন্য কোনো নেতাকর্মীকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। কোনো বিভেদ বা দ্বন্দ্ব থেকে কিংবা আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের পাশ কাটানোর উদ্দেশ্যে এমনটা করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে দলীয় ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক সিলেট বিএনপির অভ্যন্তরীণ বলয়ভিত্তিক রাজনীতি এবং আসন্ন সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এলো। সিটি নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে, দলের ভেতরের এই বলয়ভিত্তিক টানাপোড়েন ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।






