চা-বাগানে আতঙ্ক! এক কিলোমিটার ধাওয়া করে তরুণীকে উত্ত্যক্ত, ভাইরাল ভিডিওতে ফুঁসে উঠেছে দেশ

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের শান্ত চা-বাগান ঘিরে এবার উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতার চিত্র। ঘুরতে যাওয়া এক তরুণী ও তার দুই ছোট বোনকে ঘিরে প্রকাশ্যে অনুসরণ, কটূক্তি এবং দীর্ঘ সময় ধরে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট নগরীর গোয়াবাড়ী এলাকার একটি চা-বাগানে। ভুক্তভোগী ওই তরুণী ঢাকার বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শনিবার তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিওসহ বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন।

তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তার দুই ছোট বোনকে নিয়ে চা-বাগান এলাকায় ঘুরতে গেলে হঠাৎই একদল যুবক তাদের অনুসরণ শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। যুবকরা তাদের পিছু নিয়ে কটূক্তি করতে থাকে এবং অশোভন আচরণ করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক নির্লজ্জভাবে তাদের পিছু নিচ্ছে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণী বলতে বাধ্য হন, “তোমরা মেয়ে দেখো নাই?” কিন্তু তাতেও থামেনি উত্ত্যক্তকারীরা। বরং একজনকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দিতে এবং আরেকজনকে ধূমপান করতে দেখা যায়, যেন পুরো ঘটনাটি তারা বিনোদন হিসেবে নিচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রায় এক কিলোমিটার পথজুড়ে এই অনুসরণ ও উত্ত্যক্ত চললেও আশপাশের কেউ কার্যকরভাবে এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এতে তার দুই ছোট বোন ভয় ও মানসিক চাপে পড়ে যায়।

ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ওই তরুণী লেখেন, “এভাবেই কি সিলেটে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়? আমি আর কাউকে গর্ব করে সিলেট ভ্রমণের পরামর্শ দিতে পারব না।” তার এই বক্তব্য দ্রুতই নেটিজেনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরীতে যদি নারীরা নিরাপদ না হন, তবে পর্যটন খাত কীভাবে টিকে থাকবে? নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।

ঘটনার পর শনিবার রাতেই স্থানীয়রা অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ধাওয়া দিয়ে তিন যুবককে আটক করেন। পরে তাদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার মুচলেকা নেওয়া হয় এবং মামলা হলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার শর্তে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ কাওছার আহমদ জানান, তিনি সালিশে উপস্থিত ছিলেন এবং স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজ খান সজিব বলেন, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়।

সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ভিডিওটি পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও পুলিশের আগেই স্থানীয়ভাবে সালিশ সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, সিলেটের চা-বাগান ও পর্যটন এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল এবং নিরাপত্তা জোরদার না করলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে। তাদের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Share This Article