সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের চা বাগানে ঘুরতে এসে প্রকাশ্যেই উত্যক্ত ও হেনস্তার শিকার হলেন এক নারী পর্যটক। পুরো ঘটনাটি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে প্রচার করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে অভিযুক্ত তিন কিশোরকে শনাক্ত করে আটক করা হলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে নগরের গোয়াবাড়ী এলাকার আলী বাহার চা বাগানে। ভুক্তভোগী আশফিকা তাহসিন নামের ওই তরুণী জানান, তিনি বাগানের ভেতরে ঘুরতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন কিশোর ও তরুণ তাকে লক্ষ্য করে পিছু নেয় এবং বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতে শুরু করে।
লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণী বারবার তাদের থামতে বললেও তারা সরে যায়নি। বরং কেউ ক্যামেরার সামনে এসে অশোভন আচরণ করে, কেউ সিগারেট টানতে টানতে তাকে অনুসরণ করে। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে তরুণী বলেন, ‘তোমরা মেয়ে দেখো নাই?’ জবাবে অভিযুক্তদের হাসাহাসি করতে দেখা যায়। এতে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আশপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে এসে সহযোগিতা করেননি। এতে করে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। পরে তিনি ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তদের শনাক্ত করে শনিবার রাতে তিন কিশোরকে আটক করে। জানা যায়, তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে এবং তারা টুকেরবাজার ইউনিয়নের গোয়াবাড়ী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আটক করার পর উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্ত কিশোররা দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চায় এবং তাদের অভিভাবকরাও দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর তাদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
সালিশে উপস্থিত স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা জানান, ভুক্তভোগী যদি মামলা করেন, তাহলে কিশোরদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে এমন শর্তেই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে পুলিশ বলছে, ভিডিওটি নজরে আসার পর তারা অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালায়। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর পর্যটন এলাকায় নারী নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয়দের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনায় তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সালিশের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা বাড়াতে পারে।

