চামড়া খাতকে রপ্তানির শক্তিশালী ভিত্তি করতে চায় সরকার, জুলাইয়ে আসছে মাস্টারপ্ল্যান

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি।

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এই খাতকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়া সরকারের লক্ষ্য।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পোস্তা কাঁচা চামড়ার আড়ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই চামড়া শিল্পের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে এবার কোরবানির অধিকাংশ চামড়া ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে আমিনবাজার, পোস্তা ও সাভারের হেমায়েতপুরে বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ এবং লবণ প্রয়োগ কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোরবানির পর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে চামড়া পরিষ্কার করে লবণ মাখাতে পারলে তা দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব। সময়মতো লবণ না দিলে চামড়া নষ্ট হয়ে যায় এবং এর অর্থনৈতিক মূল্য কমে যায়।

চামড়া পাচার রোধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি চামড়াও যাতে দেশের বাইরে পাচার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ও সিইটিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা হলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। বর্তমানে সিইটিপির সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

চামড়ার গুণগত মান উন্নয়নে জবাই ও স্কিনিং প্রক্রিয়া আধুনিক করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষতার সঙ্গে চামড়া সংগ্রহ না করলে মান নষ্ট হয়, তাই পুরো প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ও রপ্তানি বর্তমানে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার। সরকার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা ও সংগ্রহকেন্দ্রে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করেছে, যাতে চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

এ সময় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Share This Article