ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা - Surma Times | Sylhet News
ভারতে ভারী বৃষ্টি সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটজুড়ে টানা বৃষ্টি আর উজানের ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা সিলেটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময়।

গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে অবিরাম বৃষ্টি চলছে। এই বৃষ্টির ধারা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একই সময়ে মেঘালয়ের সোহরা, শিলং ও আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বিশেষ করে সোহরায় ৭২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা সিলেটের নদ-নদীতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

উজানের পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় সুরমা, কুশিয়ারা সহ প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও কোনো নদী বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও অধিকাংশ পয়েন্টেই পানি ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এতে করে হাওরাঞ্চল, সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা ও নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জে ৮২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই ভারী বর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ২৬ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সময়ে মেঘালয়েও ২৯ মে পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে, যা সিলেটের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মুঈদ জানিয়েছেন, উজানের পানি আর স্থানীয় বৃষ্টিপাত একসঙ্গে মিললে নদীর পানি দ্রুত বাড়বে। এতে স্বল্প সময়ের মধ্যে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, পাহাড়ি ঢল ইতোমধ্যে নদীগুলোতে প্রভাব ফেলছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, বন্যা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে সিলেট এখন অপেক্ষা করছে প্রকৃতির পরবর্তী ধাক্কার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে নাকি হঠাৎ বন্যায় ডুববে জনপদ, তা নির্ধারণ করবে আগামী কয়েকটি দিন। স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article