সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একের পর এক খুন, ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাদকসেবীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অবাধ প্রবেশকেও এ পরিস্থিতির বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরও মনে করেন, সিলেটে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গে মাদকসেবীদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি বলেন, মাদক যেন সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
র্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরীও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং সহিংস অপরাধের পেছনে মাদকের বড় ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে। মাদকাসক্ত হয়ে অনেক তরুণ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তঘেঁষা জেলা, পর্যটনকেন্দ্র এবং প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় সিলেটে মাদকের বিস্তার তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কসবা, কোম্পানীগঞ্জসহ কয়েকটি সীমান্তপথ দিয়ে গাঁজা, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ ও ইয়াবা প্রবেশ করছে। এসব মাদক দ্রুত বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে বলেও তিনি জানান।
রোববার সিলেটে ঈদের সময়ের নিরাপত্তা নিয়ে কাজিরবাজার গরুর হাটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৯ এর অধিনায়ক বলেন, সিলেট বিভাগের চার জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ নজরদারি চলছে। ঈদের ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়ায় হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে মাদক সরবরাহের প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। তাই এসব এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব-৯ দাবি করেছে, চলতি বছর সিলেট অঞ্চলে মাদক উদ্ধারে তাদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ ব্যাটালিয়নের মধ্যে মাদক উদ্ধারে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে, পাশাপাশি গ্রেপ্তার হয়েছে বহু মাদক কারবারি।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অভিযান দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, তরুণদের সচেতন করা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
র্যাব-৯ জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে শুধু নয়, সার্বক্ষণিকভাবেই মাদক, অনলাইন জুয়া ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে র্যাব।

