
সুরমা টাইমস ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত দুই কিশোরকে কারাদণ্ড না দিয়ে কিশোর পুনর্বাসন আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী বলেছেন, রায় শুনে তার “মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে”, আর তার পরিবার এ সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা বলে আখ্যা দিয়েছে ।
সাউদাম্পটন ক্রাউন কোর্টের বিচারক নিকোলাস রোল্যান্ড বয়স কম হওয়ায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে কারাগারে না পাঠিয়ে তিন বছরের কিশোর পুনর্বাসন আদেশ দেন। আদালত আরও জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারির আলাদা ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরকেও ১৮ মাসের কিশোর পুনর্বাসন আদেশ দেওয়া হয়েছে ।
ভুক্তভোগী কিশোরী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তাহলে আমাকে এসবের মধ্য দিয়ে নেওয়ার কী মানে দাঁড়াল?” তার অভিযোগ, আদালতের রায় দেখে মনে হচ্ছে ছেলেগুলোর কাজ ভুল ছিল ঠিকই, কিন্তু তারা শিশু হওয়ায় আইনের চোখে যেন বিষয়টি সহনীয় হয়ে গেছে । তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি প্রকাশ করতে তার ছয় মাস সময় লেগেছিল, কারণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পর তিনি সাহায্য চাইতে বাধ্য হন ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হ্যাম্পশায়ারের ফোর্ডিংব্রিজে অ্যাভন নদীর ধারের একটি আন্ডারপাসে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে যোগাযোগ গড়ে ওঠার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সে প্রথমবার ছেলেদের একজনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল । অভিযোগ আছে, অভিযুক্তরা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং সেই ফুটেজের কিছু অংশ অনলাইনে ছড়িয়ে দেয় ।
আদালতে রায় ঘোষণার সময় বিচারক অপরাধকে গুরুতর বলে উল্লেখ করলেও বয়সের কারণে অভিযুক্তদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন । তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীর পরিবার বলেছে, এটি শাস্তির বদলে “মৃদু ভর্ৎসনা”র মতো ।
রাজনৈতিক মহল থেকেও রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া এসেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে “মর্মান্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন এবং রায় পুনর্বিবেচনার পদক্ষেপকে সঠিক বলেছেন । রিফর্ম ইউকের সংসদ সদস্য রবার্ট জেনরিক ও কনজারভেটিভ নেত্রী কেমি ব্যাডেনকও রায়কে ন্যায়বিচারবিরোধী বলে সমালোচনা করেছেন ।
যুক্তরাজ্যের চিলড্রেনস কমিশনার ডেম র্যাচেল ডি সুজা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন । সরকারের এক মুখপাত্রও জানান, আইন কর্মকর্তারা মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করছেন ।
এখন অ্যাটর্নি জেনারেলের সামনে ২৮ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে, রায়টি আপিল আদালতে পাঠানো হবে কি না । ভুক্তভোগী পরিবার চাইছে, আদালতের সিদ্ধান্ত বদলে দোষীদের কারাগারে পাঠানো হোক ।

