সুরমা টাইমস ডেস্কঃ ঈদের পর ধর্ষক, নারী নিপীড়ক এবং মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর জালালাবাদের সোনাতলা গ্রামে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত যত শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আরও জানান, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গে মাদকাসক্তদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সজাগ থাকতে হবে।
শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার চার্জশিট দাখিল এবং দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে বিকেলে নগর ভবনে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্বীকার করেন, সম্প্রতি সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অপরাধীদের শনাক্তে সিলেট নগরে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা বসানোর কথাও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৬ মে শিশু ফাহিমা নিখোঁজ হয়। পরে ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানা পুলিশ নিহত শিশুর প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ফাহিমাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে ব্রিফকেসে রাখা এবং পরে ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিলেটে সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি ও শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ড ঘিরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।

