জৈন্তাপুরে মানবপাচার চক্রের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: নেপথ্যে ইউপি সদস্য!

ছবি: এআই
 ছবি: এআই

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা সীমান্তবর্তী ঘিলাতৈল গ্রামে মানবপাচারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র মানবপাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর মেম্বার, তার ছেলে সুজন ও তার ভাই মনা মিয়ার বিরুদ্ধে নানামুখী অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার সংক্রান্ত কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে কিংবা কোনো পাচারকারী আটক হলে, মনসুর মেম্বার দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর বিষয়টি “মীমাংসা” করার কথা বলে পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই সীমান্ত এলাকায় নারী-পুরুষ ও শিশু পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, এই সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার নিয়ে ‘দৈনিক সবুজ সিলেট’ ইতিপূর্বে একাধিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করলেও প্রশাসনের অভিযান ও ভূমিকা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, কার্যকর অভিযান ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এ ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধ বন্ধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তবে অভিযুক্ত স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবপাচারকারীদের সঙ্গে তার নিজের, ভাই কিংবা ছেলের জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ‘পুলিশ ও বিজিবির সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা পাচারের সাথে জড়িত নই, উল্টো বিভিন্ন সময় মানবপাচারকারীদের ধরে আমরাই পুলিশে সোপর্দ করি।’

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়েছি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Share This Article