সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অন্যতম কারণ নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়ক, রেল ও আকাশপথে নানা সংকটে থাকা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এবার সুখবর দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সিলেটের যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-সিলেট রেললাইনকে ডাবল গেজে উন্নীত করার বিষয়ে মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়িত হলে এ রুটে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে। এতে সিলেট থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা, যা সড়কপথের চাপও কমাবে।
তিনি আরও জানান, আখাউড়া-সিলেট রেললাইন ডাবল গেজে উন্নীতের কাজ অনুমোদন পাওয়ার পর সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইন নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় থাকা সিলেটের রেল যোগাযোগকে আধুনিক ও গতিশীল করাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে এখন গতি কিছুটা কম থাকলেও ঈদের পর এ সংস্কারকাজ পুরোদমে শুরু হবে। একই সঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার কাজও চলছে বলে তিনি জানান।
আকাশপথ নিয়েও আশার কথা শোনান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিমান পরিচালনা পর্ষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে, এবং বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। ঈদুল আজহা-পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে জরুরি সভাও হবে।
এর আগে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১১৫৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে প্রায় ৫৮ লাখ টাকার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই সিটি করপোরেশনের প্রাণ। তাদের অবদানেই সিলেট শহর বাসযোগ্য থাকে। তাই প্রতি ঈদে তাদের জন্য বিশেষ উপহার দেওয়া হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ৮৩১ জন কর্মীর উপহার নিশ্চিত করা হয়। পরে আরও ৩৩১ জন কর্মী যাতে বাদ না পড়েন, সে জন্য সিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, অনেক কর্মী ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে থাকেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়া হবে।
কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং চামড়া সংরক্ষণেও গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের পর দ্রুত বর্জ্য পরিষ্কার করে সিলেটকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে। পাশাপাশি কোরবানির পশুর চামড়ায় চার ঘণ্টার মধ্যে লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে চামড়া নষ্ট না হয় এবং সঠিকভাবে সংগ্রহ সম্ভব হয়।

