সুরমা টাইমস ডেস্কঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটে নানা আকর্ষণের ভিড়ে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জের এক ব্যতিক্রমী মহিষ—‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। অদ্ভুত রং, ভিন্নধর্মী গড়ন আর কপালের চুলের কারণে এটি এখন দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে।
গোলাপি মহিষে ঈদের বাজারে চমক
প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি সাধারণ মহিষের মতো কালো নয়, বরং হালকা গোলাপি বা ক্রিম রঙের। এটি মূলত এলবিনো জাতের হওয়ায় এমন বিরল রং ধারণ করেছে, যা বাংলাদেশে খুব কমই দেখা যায়।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এর কপালের সোনালি-লালচে চুল, যা অনেকটাই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচিত হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে মিলে যায়। এই অদ্ভুত মিল থেকেই মহিষটির নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, যা এখন মানুষের মুখে মুখে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায়
শুক্রবার (২২ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স মহিষটি নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে একে “ঈদের সেনসেশন” হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং এর ব্যতিক্রমী চেহারা ও জনপ্রিয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
শুধু রয়টার্সই নয়, এর আগেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য টেলিগ্রাফ, ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস ও নিউজ এইট্টিনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই মহিষটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে স্থানীয় আকর্ষণ থেকে এটি এখন বৈশ্বিক কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।
খামারে দর্শনার্থীদের ঢল
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অবস্থিত রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে রাখা হয়েছে মহিষটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে শুধু এই মহিষটিকে একনজর দেখতে আসছেন।
অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে অনলাইনেও এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
নামকরণের পেছনের গল্প
খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন জানান, প্রথমে তার ছোট ভাই মজা করে মহিষটির কপালের চুল দেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করেন। সেখান থেকেই নামটি রাখা হয়।
পরবর্তীতে সেই নামই এত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নেবে—তা তারা কল্পনাও করেননি।
কোরবানির হাটে নতুন ট্রেন্ড
বাংলাদেশে কোরবানির পশুর নাম বিখ্যাত ব্যক্তি বা সেলিব্রিটির নামে রাখার প্রবণতা আগে থেকেই আছে। তবে এবার সেই প্রবণতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষ শুধু স্থানীয় হাটেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে—যা দেশের পশু খামার শিল্পের জন্যও এক ধরনের প্রচারণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



