রামিসা হত্যাকারী যুবলীগ কর্মী সোহেল রানার অতীত অপকর্মের চাঞ্চল্যকর তথ্য

মৃত্যুদণ্ড চান স্বজন ও এলাকাবাসী

রামিসা হত্যাকারী যুবলীগ কর্মী সোহেল রানানাটোর: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি যুবলীগ কর্মী সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন তার নিজের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

শুক্রবার (২২ মে) সোহেল রানার জন্মস্থান নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে তার বাবা-মা, চাচা, প্রতিবেশী ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক, জুয়া ও নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

গ্রামে সোহেল রানার পরিচয় ও অতীত

স্থানীয়রা জানান, সোহেল রানা ওরফে এসএম রানা ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় অনীহা দেখিয়েছেন। তরুণ বয়সে স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেন। সেতুর নির্মাণ সামগ্রী চুরি, গরু চুরি, মাদকসেবন ও অনলাইন জুয়ায় আসক্তির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক মামলায় জেলও খেটেছেন তিনি।

স্থানীয় সাবেক পৌর কাউন্সিলর মহিদুল ইসলাম বলেন, “রানা এলাকায় যুবলীগের পরিচয়ে বিলবোর্ডও দিয়েছিল। সে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ছিল বলে জানা যায়। তার অপকর্মের কারণে এলাকাবাসী এখন লজ্জিত।”

কলম ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড সদস্য আলী জানান, “সোহেল রানা মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিল। সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।”

পরিবারের বক্তব্য

সোহেল রানার বাবা জেকের আলী বলেন, “ছেলে মদ-জুয়া ও নানা খারাপ কাজে জড়িত ছিল। মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা ধার নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। চার বছর ধরে তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। তার অপকর্মের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার।”

রানার মা খাদিজা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “এমন কুলাঙ্গার ছেলের প্রতি আমার আর কোনো মায়া নেই। সে যা করেছে তা অমানবিক। তার বিচার হোক, এটাই এখন আমাদের দাবি।”

রানার চাচা রেজাউল করিম জানান, ঢাকায় যাওয়ার আগে তিনি স্থানীয় বাজারে সাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে করে চার বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরপর আর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোহেল রানা আমার ডান হাত ছিল না, শুধু এলাকার লোক হিসেবে উঠাবসা করত। তবে সে যে ঘৃণ্য অপরাধ করেছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানা ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রামিসার পরিবারসহ দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠেছে। (মূল সংবাদঃ যুগান্তর)