টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে সাবমেরিন নিখোঁজ

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ

আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে আগ্রহী পর্যটকদের নিয়ে নিখোঁজ হওয়া সাবমেরিন বা ডুবোযান টাইটানে পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ-পাকিস্তানি ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ (৪৮) এবং তার ১৯ বছর বয়সি ছেলে সুলেমান দাউদ।= খবর: সিএনএন ও ডন’র।

 

গত রোববার কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের উপকূল থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে পাঁচজন যাত্রীসহ ‘টাইটান’ নামের সাবমেরিনটি নিখোঁজ হয়। পাঁচজন যাত্রীর মধ্যে রয়েছে একজন চালক (পাইলট), বাকি চারজন দর্শণার্থী। নিখোঁজ হওয়া এই সাবমেরিনটি উদ্ধারে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনুসন্ধানকারী দল। উভয় দেশের নৌবাহিনীসহ বেসরকারি সংস্থাগুলো এই অভিযানে সহায়তা করছে।

 

 

ডুবোজাহাজটি যাত্রা শুরুর প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ক্রুদের সঙ্গে গবেষণা জাহাজ পোলার প্রিন্সের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ডুবোজাহাজটিতে যে কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে, সুলেমান ও হামিশ হার্ডিং ও পল হেনরি নারজিওলেট।

 

মার্কিন কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সাবমেরিনটির মোট ৯৬ ঘণ্টা পানির নিচে থাকার ক্ষমতা আছে। কর্মকর্তারা জানান, একাধিক সামরিক উড়োজাহাজ, একটি সাবমেরিন ও অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এই অনুসন্ধানকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সিবিএসের সাংবাদিক ডেভিড পোগ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে সোমবার জানান, অতল গভীরে হারিয়ে যাওয়া ডুবোজাহাজটির ভেতর যারা আছেন, যদি তাদের খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে তারা কেউই বের হতে পারবেন না।

 

কারণ, বাইরে থেকে বেশ শক্তভাবে এটি বন্ধ করা আছে, যা ভেতর থেকে খোলা সম্ভব নয়। যাত্রীদের বেশ কয়েকটি ভল্টের মাধ্যমে বাইরে থেকে আবদ্ধ করা হয়েছে।

আড়াই কোটি টাকা খরচ করে চড়েছিলেন যাত্রীরা : ক্রু ছাড়া যেসব সাধারণ যাত্রী ডুবোজাহাজটিতে চড়েছিলেন তাদের প্রত্যেকের খরচ হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আড়াই কোটি টাকারও বেশি।

 

সমুদ্র অভিযানবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ওশেনগেট অর্থের বিনিময়ে ‘দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের’ সাগরের ১২ হাজার ৫০০ ফুট নিচে পড়ে থাকা টাইটানিক জাহাজের কাছে ঘুরিয়ে আনে। নিখোঁজ টাইটানের যাত্রীদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ ধনকুবের হামিস হার্ডিং (৫৮)।

 

‘পোলার প্রিন্স’ রবিবার সকালে আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছায়। টাইটানে থাকা হামিশ হার্ডিং-এর একটি ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, যে তারা স্থানীয় সময় চারটার দিকে পানির নিচে যাত্রা শুরু করবে বলে আশা করছেন।

অনুসন্ধানের নেতৃত্বদানকারী বোস্টন কোস্ট গার্ড টুইটারে বলেছে যে, পাঁচ জন আরোহী “রবিবার সকালে পানির নিচে যাওয়া শুরু করে এবং এর প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে পোলার প্রিন্সের ক্রুরা তাদের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে”।

টাইটান ডুবোজাহাজটি তখন কেপ কড উপকূল থেকে প্রায় ১৪৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল বলে মনে করা হয়েছিল।

মার্কিন কোস্ট গার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার সোমবার বলেছেন যে এমন একটি দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চালানো একটি চ্যালেঞ্জ।

অনুসন্ধানের দুটি দিক আছে, একটি হল সমুদ্র পৃষ্ঠে অনুসন্ধান যদি টাইটান সমুদ্রের পৃষ্ঠে ফিরে আসে এবং সেখান থেকেই কোনোভাবে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। এছাড়া পানির নিচে শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সোনার অনুসন্ধানও আরেকটি উপায় রয়েছে।

সমুদ্র পৃষ্ঠে সাবমার্সিবল খোঁজার জন্য কোস্ট গার্ড দুটি সি-১৩০ হারকিউলিস আকাশযান পাঠিয়েছে, এবং একটি কানাডিয়ান সি-১৩০ এবং একটি পি৮ আকাশযানও অনুসন্ধানে কাজ করছে, যাদের পানির নিচে সোনার অনুসন্ধানের ক্ষমতা রয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার বলেছেন যে, জাহাজটিকে যদি পানির নিচে পাওয়া যায় তাহলে সেটি উদ্ধার করতে অতিরিক্ত দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করা হবে।

কানাডার প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, বিমানটির পাশাপাশি কানাডিয়ান কোস্ট গার্ডদের জাহাজ ‘কোপিট হপসন’ অনুসন্ধানে সাহায্য করছে।

পোলার প্রিন্সের সহ-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হরাইজন মেরিটাইম, বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে জাহাজটি অনুসন্ধানে কাজ করছে এবং একটি দ্বিতীয় জাহাজ, হরাইজন আর্কটিক, ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।