বারারিস্টার মুশতাক আহমেদ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নতুন স্পিকার নির্বাচিত

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নতুন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন কাউন্সিলর বারারিস্টার মুশতাক আহমেদ। একই সঙ্গে ল্যান্সবেরি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সাবেক ক্যাবিনেট সদস্য ইকবাল হোসেন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (২০ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় কাউন্সিল চেম্বারে অনুষ্ঠিত নবনির্বাচিত কাউন্সিলের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ৭ মে অনুষ্ঠিত মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে লুৎফর রহমান পুনরায় নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হন এবং মোট ৪৫ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

সভায় বিদায়ী স্পিকার কাউন্সিলর সুলুক আহমেদ ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

নির্বাচনের পর নির্বাহী মেয়র লুৎফর রহমান নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “কাউন্সিলর মুশতাক আহমেদ ও কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ও প্রথম নাগরিক এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।” তিনি নতুন ক্যাবিনেট সদস্যদেরও স্বাগত জানান।

মেয়র আরও বলেন, “আমাদের নেতৃত্ব টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করবে। সবার জন্য আরও ভালো একটি বরো গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”

অফিসিয়ালি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নতুন স্পিকার বারারিস্টার মুশতাক আহমেদ সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্পিকার হিসেবে দায়িত্বকালে তিনি দুটি দাতব্য সংস্থাকে সমর্থন দেবেন। এর একটি হলো মেরি সেলেস্ট সামারিটান সোসাইটি অব দ্য রয়্যাল লন্ডন হসপিটাল, যা রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য সরাসরি সহায়তা ও আবাসন সহায়তা প্রদান করে। সংস্থাটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত অসহায় ও গৃহহীন রোগীদেরও সহায়তা করে।

অন্য সংস্থাটি হলো ভ্যালান্স কমিউনিটি স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, যা কমিউনিটিতে খেলাধুলা প্রসারের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সংগ্রাম থেকে নেতৃত্বে

বারারিস্টার মুশতাক আহমেদ ২০০০ সাল থেকে টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার জলালপুরের খতিরা গ্রামের সন্তান তিনি। তাঁর বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বেগ এবং মা হুসনে আরা বেগম—উভয়েই প্রয়াত।

১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে আসেন এবং প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী হিসেবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। শুরুতে রেস্টুরেন্টে কাজ করলেও পরে নিজেই ক্যাটারিং ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং টানা ১২ বছর সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন।

৩২ বছর বয়সে তিনি নতুন করে পড়াশোনায় ফিরে যান। টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজে ভর্তি হয়ে তিনি “স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার” নির্বাচিত হন। এরপর কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ও ওপেন ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব ল’ থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

বর্তমানে তিনি ট্রেইনি সলিসিটর ও লিটিগেশন কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন, যেখানে সিভিল, এমপ্লয়মেন্ট ও ইমিগ্রেশন আইন তাঁর বিশেষ ক্ষেত্র। তিনি পুলিশ স্টেশন রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

কমিউনিটিতে সক্রিয় ভূমিকা

শিক্ষাজীবন চলাকালেই তিনি রয়্যাল লন্ডন হসপিটালে হেলথ অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং প্রায় ১৫ বছর ধরে রোগীদের কল্যাণে অবদান রেখে চলেছেন। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে তিনি চাকরি, দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধি-বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যান এবং একাধিক কমিটির ভাইস-চেয়ার হিসেবেও কাজ করেছেন।

কমিউনিটি কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। পুলিশ কাস্টডি ভিজিটর প্যানেলের সদস্য এবং স্কুল গভর্নর হিসেবেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া কাউন্সিল অব মসকিউসের সাবেক নির্বাহী সদস্য, বিশপসওয়ে মসজিদের পরিচালক ও সচিব হিসেবে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে তিনি কাজ করেছেন।

নিজ এলাকা উন্নয়নে তিনি যুক্ত রয়েছেন জালালপুর অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি ইউকে-এর সঙ্গেও। ব্যক্তিজীবনে তিনি পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ; তাঁর মতে, স্ত্রীই তাঁর সফলতার প্রধান সহায়ক। তাঁদের দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে, যাদের মধ্যে বড় ছেলে ও মেয়ে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে পারিবারিক ধারা এগিয়ে নিচ্ছেন।

চাইলে আমি এটাকে আরও পত্রিকার প্রথম পাতার মতো সংক্ষিপ্ত বা ওয়েব নিউজের জন্য আরও ঝকঝকে শিরোনামসহ সংস্করণে রূপান্তর করে দিতে পারি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।