সিলেট, ২৮ অক্টোবর: সিলেটের পুরনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণ করা হবে বলে আবারও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। প্রস্তাবিত এই পার্ক বিএনপির প্রয়াত চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার সিলেট নগরে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমনটি বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট শহরে হাঁটার জায়গা নেই। নগরবাসীর হাঁটাচলার সুবিধার্থে আমরা সিলেট নগরের পুরনো কারাগারের জায়গায় একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের পার্ক নির্মাণ করব। এই পার্কটিকে আমরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ করব।
মন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাদের সবার আবেগের সম্পর্ক। তিনি এই দল ও দেশকে প্রচুর দিয়েছেন। সিলেট তার খুব প্রিয় জায়গা। তিনি তার সব বড় কাজ সিলেট থেকে শুরু করতেন। আমার ইচ্ছা এই পার্কটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ করব।
পার্ক নির্মাণ কাজের শুরু প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পুরনো কারাগারটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে তার আগে তারা কিছুটা সময় নিয়েছেন, একটি মেট্রোপলিটন কারাগার নির্মাণের জন্য। বাদাঘাটে নতুন কারাগারের পাশে আরেকটি কারাগার হবে। এজন্য জায়গা অধিগ্রহণ কাজ শুরু হবে। নতুন কারাগার নির্মাণের পরপরই আমরা পুরনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করব।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় সিলেটকে আরও বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কিনব্রিজের পাশে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। যাচাইয়ের ফলাফল পাওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, বাদাঘাট বাইপাস ও সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ চিত্র দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নগরীর জালালাবাদ পার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে সিলেট সিটি করপোরেশন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট নগরের বন্দরবাজার-ধোপাদিঘির পাড়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সিলেটের এই কারাগারের জায়গায় উন্মুক্ত উদ্যান নির্মাণের বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার উদ্যোগেই বাদাঘাটে নির্মিত হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২। তবে কারা অধিদপ্তর পুরনো কারাগারের জমি ছাড়তে আপত্তি জানানোতে সে জায়গায় উদ্যান করতে পারেননি মুহিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্ক নির্মাণ না করে উঁচু দেয়ালের ভেতরেই আবদ্ধ রাখা হয় বিশাল এই ভূমিকে। এবার সেই জায়গাই উন্মুক্ত হবে নগরবাসীর জন্য। এখানে থাকবে সবুজের সমারোহ। থাকবে হাঁটার পথ। থাকবে নির্মল বাতাসে স্বস্তির পরিসর। নগরীর ব্যস্ত জীবনে কিছুটা প্রশান্তির জায়গা হবে এই পার্ক।







