শেষ সময়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়ে জমে উঠেছে সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা

শেষ সময়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়ে জমে উঠেছে সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা - Surma Times | Sylhet News

শেষ সময়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়ে জমে উঠেছে সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২০ আগস্ট: শেষ মুহূর্তে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় প্রতিদিনই প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

ইট-পাথরের নগরীর মাঝে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ বৃক্ষমেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফল ও ফুলের গাছ গাছপ্রেমীদের আকৃষ্ট করছে।

সিলেট জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে **‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’** স্লোগান সামনে রেখে পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বিভাগীয় বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকছে। আগামী **২৯ আগস্ট** পর্যন্ত মেলা চলবে।

মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ ও আকর্ষণীয় গাছের পাশাপাশি রয়েছে বনসাই, ক্যাকটাস, ইনডোর প্ল্যান্ট, ফুল ও ফলের হাজারো চারা। এর মধ্যে মালয়েশিয়ান ফলজ গাছ রামবুটান বিশেষ নজর কেড়েছে। একটি রামবুটান গাছের দাম চাওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা; দরদামে তা ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ফিলিপাইনি আর্ক গাছ ২৫০ থেকে ৬ হাজার টাকা, জাপানের জাতীয় ফল পারসিমন গাছ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার, চীনের ভ্যারিগেটেড কাঁঠাল ২৫ হাজার, দেশি সাতকরা ৫ হাজার, বড় নাশপাতি গাছ ২৫ হাজার, চালতা ১০ হাজার, অস্ট্রেলিয়ান ফিঙ্গার লেমন ১০ হাজার এবং মেলিনা চেরি গাছ সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মেলায় আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার বলেন, বিভিন্ন ধরনের গাছ ও বৃক্ষের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, পরিবেশ সুন্দর ও নির্মল রাখার পাশাপাশি মানুষের জীবন রক্ষায়ও গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চাকরিজীবী দ্বিপালী রানী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। তাঁর মতে, বৃক্ষমেলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়বে।

নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রব জানান, মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছাদবাগানের উপযোগী ফল ও ফুলের গাছ। নগরবাসীর মধ্যে ছাদকে সবুজ করে তোলার আগ্রহ বাড়ায় আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, মাল্টা, কমলা, কামরাঙা, লিচু, বারোমাসি আম ও বিভিন্ন জাতের পেঁপে গাছের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি ও বিদেশি বিভিন্ন ফলের চারাও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

সুগন্ধা নার্সারির স্বত্বাধিকারী মনোয়ারা বেগম বলেন, ফুলের গাছের মধ্যে গোলাপ, জুঁই, বেলি, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জবা, বাগানবিলাস, নয়নতারা ও অর্কিডের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি মানিপ্ল্যান্ট, এরিকা পাম, স্নেক প্ল্যান্ট, ফাইকাস ও বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাসও কিনছেন দর্শনার্থীরা।

মেলায় অনেক দর্শনার্থী দুর্লভ কিংবা অপরিচিত গাছের সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ আবার গাছের পরিচর্যা ও চাষাবাদ সম্পর্কে বিক্রেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। ফলে মেলাটি শুধু গাছের কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, নগরবাসীর মধ্যে বৃক্ষপ্রেম ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরিরও একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

সিলেট নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মলয় লাল ধর বলেন, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে মেলা শুরু হওয়ায় শুরুতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা ছিল। তবে শেষ সময়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি সেই হতাশা অনেকটাই কাটিয়ে দিয়েছে।

তিনি জানান, রোদ-বৃষ্টি, লোডশেডিং এবং সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের স্বল্প চাপজনিত যানবাহন সংকট মেলায় কিছুটা প্রভাব ফেলছে। তারপরও শেষ সময়ে মানুষের আগ্রহ ও উপস্থিতি ব্যবসায়ীদের আশাবাদী করে তুলেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেলায় প্রতিদিন গড়ে **৫ লাখ টাকার বেশি** গাছপালা ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী কেনাবেচা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

আয়োজকদের আশা, মেলার শেষ দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আরও বাড়বে। নগরবাসীর ছাদবাগান, বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে সিলেটকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article