সিলেট, ১৯ আগস্ট: মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ, সিলেট। আগামী ১ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মবার্ষিকীতে রূহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আহমদ বহলুল বলেন, বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানীকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকার করা প্রয়োজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়াসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানীর স্বাধীনতা পদক পাওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। প্রায় ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর ভাগ্যে স্বাধীনতা পদক জোটেনি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
সৈয়দ আহমদ বহলুল বলেন, মহান এই বীর সেনানীকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশ ও জাতির জন্য বঙ্গবীর ওসমানী নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। সামাজিক ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে। জীবন বাজি রেখে দেশ, জাতি ও দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধ করলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে এখনো তাঁকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়নি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীনতা পদকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীসহ ১৯ জন সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
সম্প্রতি ডাং জাফর উল্লাহকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সৈয়দ আহমদ বহলুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানীকেও মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়া উচিত।
সংগঠনটির ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পদক প্রদানের বিধান শিথিল করে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বাধীনতা’ পদক মরণোত্তর প্রদান করা।
এ ছাড়া ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের জন্য বাংলা রণ ও নৃত্য সঙ্গীত নির্ধারণের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
১৯৫১ ইংরেজিতে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘চট্টগ্রাম বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী ক্যান্টনমেন্ট’ করার দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট সেনানিবাসের যেকোনো একটিতে ‘সি.ইন.সি বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।
সিলেটে অবস্থিত ওসমানী জাদুঘরের মূল স্থাপনা অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক জাদুঘরের মিলনায়তনসহ একটি কমপ্লেক্স নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য দেশবাসীর দেওয়া ‘বঙ্গবীর’ উপাধি একান্তই ওসমানীর বলে দাবি করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, বীর উত্তমের নামের পূর্বে ব্যবহৃত ‘বঙ্গবীর’ উপাধি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৫ মার্চ ১৯৭১ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মোকাবিলায় প্রতিরোধযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সামরিক কর্মকর্তাদের ৪ এপ্রিল ১৯৭১-এর বৈঠকে কর্নেল, পরবর্তীতে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সর্বাধিনায়কত্বে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৪ এপ্রিল ১৯৭১-কে স্মরণীয় করে রাখতে দিনটিকে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।
বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কর্মময় জীবনী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তাঁর লেখা ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় খরচে প্রকাশের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সি.ইন.সি বা সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবিও রয়েছে ১১ দফায়।
এ ছাড়া বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে প্রতিষ্ঠিত ওসমানী আন্তর্জাতিক সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালু করার দাবি জানানো হয়েছে।
এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন ঢাকা, ওসমানী উদ্যান ঢাকা এবং ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত স্থাপনাগুলোর আধুনিকায়ন, রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার নামের আগে ‘বঙ্গবীর’ শব্দ সংযোজনের দাবিও করা হয়েছে।
ঢাকার ওসমানী উদ্যান অবৈধ দখলমুক্ত করে আধুনিক উদ্যানে রূপান্তর এবং ওসমানী মিলনায়তন আধুনিকায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওসমানী নগর উপজেলাস্থ দয়ামীরে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী গণগ্রন্থাগার, স্মৃতি জাদুঘর ও দাতব্য চিকিৎসালয় অবিলম্বে চালু করার দাবি রয়েছে।
বঙ্গবীর ওসমানীর জন্মস্থান সুনামগঞ্জে তাঁর স্মরণে একটি মিলনায়তন নির্মাণ এবং যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে করার দাবিও জানিয়েছে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ, সিলেট।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বঙ্গবীর ওসমানীর অবদানের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ জন্য পাঠ্যবইয়ে তাঁর জীবনী ও কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।







