সিলেট, ১৭ আগস্ট: সিলেট নগরের রায়নগরে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন নয়, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির সন্তানরা। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর সোমবার সকালে রায়নগরের ওই বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির ছেলে আরিফ ইফতেখার, মেয়ে ও মামলার বাদী সেলিনা সুলতানাসহ অন্য সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছেলে আরিফ ইফতেখার।
লিখিত বক্তব্যে আরিফ ইফতেখার বলেন, তাঁরা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চান। তবে মামলার তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। এই মামলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। তবে তদন্ত যেনো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়। এই মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করবে বলে আশা করি।’
আরিফ ইফতেখার আরও বলেন, এই মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে কেউ প্রভাবশালী হওয়ার কারণে যেন পার পেয়ে না যান, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তবে নিজেদের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি নিহত দম্পতির সন্তানরা।
গত ১২ আগস্ট সকালে নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাঁদের গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি রায়নগরে নিজের বাসাতেই বসবাস করতেন। চার সন্তানের মধ্যে তাঁর দুই সন্তান লন্ডনে এবং দুই সন্তান আমেরিকায় থাকেন।
ঘটনার দিন বেলা ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ও প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের জের ধরে বাবুল মিয়া তিনজনকে হত্যা করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
তবে শুরু থেকেই পুলিশের এই বক্তব্য অস্বীকার করে আসছে নিহত দম্পতির পরিবার। পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর শুক্রবার রাতে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে তাঁর বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে ভাড়াটে লোক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে রোববার বাবুল মিয়াকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে।
নিহত দম্পতির সন্তানদের সিআইডিতে তদন্ত হস্তান্তরের দাবি এবং মামলার এজাহারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগের পর ট্রিপল মার্ডারের তদন্তে নতুন করে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে এসেছে। পরিবারের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।








