ছাতক, ৯ আগস্ট: ছাতকে সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির ওপর হামলার ঘটনায় শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বৈঠকে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন অভিযুক্তরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছিল, তবে শালিশে যাচাই-বাছাই করে ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে বক্তারা জানান।
রোববার বিকেলে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বুড়াইরগাঁও ভূমি অফিসের সামনে এ শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, মখলিছুর রহমান, উপজেলা বিএনপি নেতা আশরাফুর রহমান এনাম, বিএনপি নেতা আমিন উদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম আলী রাসেল, উপজেলা বিএনপির নেতা এমাদ উদ্দিন এমাদ, যুবদল নেতা আব্দুস সাক্তার ও মনির উদ্দিন।
এ ছাড়া কৃষকদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন, ব্যবসায়ী শিমুল আহমদ আবু ও আবুল কালাম, ইউপি সদস্য সাদ উদ্দিন, সাজল মেম্বার, সোনাফর আলী, নুর আলী, সারব আলী, আব্দুস ছোবহান, লিলু মিয়া, সাইফ উদ্দিন, নাসির উদ্দিন ও আলীম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক বক্তব্য বা কাহিনী প্রচারের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। শালিশে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে এসব বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
পরে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তাঁরা ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশ্বাস দেন।
বক্তারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা হামলা-মামলার মাধ্যমে তাঁদের কণ্ঠরোধের কোনো সুযোগ নেই। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের ভূমিকা সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে সাংবাদিকদের কলম বন্ধ করা যাবে না।
তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনি বলেন, “সাহসী সাংবাদিকতাকে হামলা-মামলা দিয়ে থামিয়ে রাখা যায় না। সত্য কখনো চাপা পড়ে থাকে না; সত্যের শেষ পর্যন্ত জয় হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আলমপুর-মাজিহারা গ্রামবাসীর নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অপতৎপরতার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো উচিত নয়।” সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে জানান।
শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরেছে। উপস্থিত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে যেকোনো ভুল-বোঝাবুঝি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।






