ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে নাশকতার অভিযোগে কালারুকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব উদ্দিনকে (৫৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাজার এলাকায় গোপন অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আফতাব উদ্দিন রাজাপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান ফখর উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানায়, সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা ও তৎপরতার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আফতাব উদ্দিনকে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছাতকে নাশকতা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় পদ-পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে আফতাব উদ্দিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি নলকূপ বরাদ্দের নামে অর্থ আদায়, থানার দালালি, চাঁদাবাজি, গ্রাম্য সালিশে জামানতের টাকা আত্মসাৎ, হামলা-মামলা এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কালারুকা ইউনিয়নের রাজাপুর, হাসনাবাদ, খাইরগাঁও, আকুপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের আলেম, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানির ভয় দেখিয়ে তাঁর অনুসারীরা অর্থ আদায় করতেন। এসব অভিযোগের মাধ্যমে আফতাব উদ্দিন বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গত ৩ ডিসেম্বর কালারুকা ইউনিয়নের রাজাপুর মাঝপাড়া এলাকায় কৃষক আব্দুল হকের কাছে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওই ঘটনায় আব্দুল হক বাদী হয়ে আফতাব উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে গত ৯ ডিসেম্বর থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর আফতাব উদ্দিন আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ওই ঘটনার পর আফতাব উদ্দিনের ভাতিজা সেলিম আহমদ বাদী হয়ে গ্রাম্য সালিশকারক নুরউদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আফতাব উদ্দিন একসময় জাতীয় পার্টির যুবসংগঠন যুবসংহতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল আহমদের পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প, টিআর-কাবিখা, টেন্ডার, টিসিবি ডিলারশিপ, জায়গা দখল, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সালিশকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সরকারি নলকূপ দেওয়ার কথা বলে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগেরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আফতাব উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সরকারবিরোধী গোপন নাশকতার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে আফতাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবার দুপুরে তাঁকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।






