
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর আগে ওই গৃহবধূর সঙ্গে রুহল আমীনের ছেলে মাসুক মিয়ার বিয়ে হয়। মাসুক মিয়া দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত অর্থাৎ হাত পা অচল অবস্থায় দেশে ফেরেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শাশুড়ির মৃত্যু এবং স্বামীর শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে শ্বশুর রুহল আমীন পুত্রবধূর ওপর কুদৃষ্টি দেন এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ জুন সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়ির বাইরে গেলে শ্বশুর আবারও তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে গৃহবধূ নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর অভিযুক্ত শ্বশুর শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূর মুখ ওড়না দিয়ে চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে তার অসুস্থ স্বামী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম আহমেদ সোনাই ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত রুহল আমীন তার সঙ্গেও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নারী বিচারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মীর আল আমীন মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক পরিমণ্ডলে এমন অভিযোগ নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে অসুস্থতা ও পারিবারিক দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে ঘটা এই ধরনের ঘটনা সমাজে নারীদের সুরক্ষায় আইনি ও সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সুবিচার নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবারের।





