সিলেট, ২৫ জুলাই: লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসবেন, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে তাঁর সঙ্গে দুলাভাইকেও আনতে হবে। তিনি ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ফাঁসি ঢাকা কারাগারে নয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হতে হবে।
শনিবার বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিলেটের জামাতা উল্লেখ করে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, তিনিও চান, আমরাও চাই একটা সুন্দর ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ। এটি তখনই সম্ভব হবে যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে, বিএনপির প্রধানমন্ত্রী নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পদক্ষেপ স্মরণ করে তিনি দালাল-চাটুকারদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে সংস্কারগুলো করার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, একই ব্যক্তি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না—এই প্রস্তাব ১১ দলীয় ঐক্যজোট দিয়েছিল, কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। আপনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী না হয়ে দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী হন।
জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশংসা করে এলডিপি সভাপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে জামায়াতের রাজনীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আজ তাদের শৃঙ্খলা ও দলীয় ঐক্য সশস্ত্র বাহিনীতেও নেই। দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজ যদি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম এবং শাইখুল হাদিস মামুনুল হক—এই তিন নেতা এক হন, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে। সরকার পালানোর কোনো পথ পাবে না। এই তিন নেতা একজোট হলে যেকোনো সময় ঢাকায় ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটাতে এবং টঙ্গী, সায়েদাবাদ ও মিরপুরের সড়ক বন্ধ করতে সক্ষম হবেন।
বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে। আপনার দলের লোকেরা দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানগুলো পাহারা দিচ্ছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে ভবিষ্যতে ‘এক দফা, এক দাবি—এই সরকার কবে যাবি’ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
সিলেটের এই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের দেশব্যাপী চলমান বিভাগীয় কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।






